E-Paper

ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা, অপেক্ষায় জেলা

দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলার মতো বীরভূমেও টানা কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:১০
কড়া রোদের তাপ থেকে বাঁচতে। সিউড়ির প্রশাসন ভবন মোড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে।

কড়া রোদের তাপ থেকে বাঁচতে। সিউড়ির প্রশাসন ভবন মোড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে। ছবি: তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়।

কখনও তীব্র গরম, কখনও তুলনায় আরামদায়ক আবহাওয়া। দিন কয়েকের তীব্র গরমে ছেদ টেনে, মঙ্গলবার থেকেই দিন তিনেক ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি না হলেও আংশিক মেঘলা আবহাওয়া গরম কিছুটা কমিয়েছে। কিন্তু কড়া রোদের মতোই ঝড় হলেও ফসলের, বিশেষত আনাজ চাষে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকছে।

বৈশাখের শুরু থেকেই গ্রীষ্মের চেনা ছবি দেখা গিয়েছে বীরভূমে । কখনও কড়া রোদ, প্রবল গরম, আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার মতো বীরভূমে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ৪০ ডিগ্রির আশপাশে। সেই আবহাওয়ার বদল ঘটেছে শনিবার রাত থেকেই। বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড় বৃষ্টি হলেও তাপ কমেছিল কিছুটা। সোম ও মঙ্গলবার রোদ ছিল। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ছিল। তবে অসহ্য গরম ছিল না। তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার ইঙ্গিত দেয় হাওয়া অফিস।

বলা হয়েছিল, দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলার মতো বীরভূমেও টানা কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আইএমডি-র শ্রীনিকেতন হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে টানা কয়েকদিন হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকবে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে জেলায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঘোরা ফেরা করবে ৩৫-৩৭ ডিগ্রির মধ্যেই। ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাসের সঙ্গে ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্ট দফতরের।

তবে জেলাবাসীর অনেকে মনে করছেন, অন্যবার যে ভাবে গরম ভোগ করতে হয় এ বার সেটা ভোগ করতে হয়নি। বরং হঠাৎ হঠাৎ তাপমাত্রার হেরফেরে শরীর বেগ দিচ্ছে। চিকিৎসকেরাও মনে করছেন, ঠান্ডা লাগা জ্বর, গলায় ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, ভাইরাল জ্বর এবং বমি পেটে ব্যথা-সহ নানা উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলিতে। সবচেয়ে সমস্যা দিনে একরকম তাপমাত্রা, রাতে আলাদা। সেটাই সমস্যা তৈরি করেছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, গরম এড়িয়ে চলতে হবে এবং বেশি করে জল খেতে হবে। গরমে থাকতে থাকতে ঠান্ডা পানীয়, শরবত, ফলের রস বা কাটা ফল খাওয়ার প্রবণতা কমালে সুস্থ থাকা যাবে। আবার সতর্ক থাকতে হবে তাপমাত্রা হুট করে কমলেও। একই সতর্কতা প্রযোজ্য শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্যও।

এই আবহাওয়া কৃষিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত কৃষি ও উদ্যানপালন আধিকারিকদের। তাঁদের মতে, এমনিতে সেচের ব্যবস্থা না থাকলে গ্রীষ্মে আনাজ চাষ সম্ভব নয়। কড়া রোদে ফসল থাকলে ঝলসে যেতে পারে। অন্য দিকে, ঝড়ের দাপট বেশি হলে মাচার ফসল নষ্ট হতে পারে বলে জানাচ্ছেন জেলা উদ্যান পালন দফতরের উপ-অধিকর্তা (প্রশাসন) সুবিমল মণ্ডল। তাঁর সংযোজন, ‘‘বৃষ্টি হলে বরং ভাল।’’ জেলা কৃষি দফতরের আধিকারিকদের মত, ‘‘ঝড় বেশি হলে নষ্ট হতে পারে পরিণত বোরো ধান, তিল। তা ছাড়া বড় কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

thunder storm Heavy Rainfall

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy