ছানি বা অন্য কারণে কারও দৃষ্টিশক্তি কমে এসেছে। কেউ বা চোখের অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। তেমন শতাধিক মানুষ রবিবার ভিড় করেছিলেন চিনপাই স্টেশনের অদূরে থাকা চিনপাই উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয়ে। উদ্দেশ্য, ‘হসপিটাল অন হুইল’ বা জীবনরেখা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া।
প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই হাসপাতাল-ট্রেনটি পূর্ব রেলের অন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখার চিনপাই স্টেশনে রয়েছে। দিন পনেরো ধরে চোখ কান, দাঁত, হাত-পায়ের বিকৃতি, কাটা ঠোঁটের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা, মুখ ও স্তনের ক্যানসারের পরীক্ষা হবে। রবিবার তার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা স্থানীয় বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। প্রথম দিন ছিল চোখের রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষার দিন।
প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯১ সালে রেল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যৌথ সহযোগিতায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই প্রকল্প শুরু করেছিল। সেই প্রকল্পেই জীবনরেখা এক্সপ্রেস চালু করা হয়। চলতি কথায় ‘হাসপাতাল-ট্রেন’। চোখ, নাক ঠোঁট অস্ত্রোপচারের জন্য তার ভিতরে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ও উন্নত সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো হয়েছে ওটি-ও রয়েছে।। রেয়েছে ক্যানসার স্ক্রিনিং এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ছয় সাত কারমরার ট্রেনটি আদতে একটি আস্ত একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল।
চলছে চিকিৎসা।
প্রতি বছর দেশে দশটির মতো শিবির হয়। বীরভূমে এই প্রথম হাসপাতাল ট্রেন এল। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুবরাজপুরের চিনপাই স্টেশনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে এ বারের শিবিরের জন্য। ২২ অগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রেন থাকবে। সোমবার থেকেই ট্রেনের মধ্যেই চোখের অস্ত্রোপচার শুরু হচ্ছে। সেই জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রবিবারই জেলায় পৌঁছে গিয়েছেন। যে ভাবে সূচি করা হয়েছে সেই মত চিকিৎসকেরা পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যাবেন। ট্রেনের সিনিয়র অপারেটিং অফিসার চন্দ্রকান্ত দেশপাণ্ডে জানান, সাধারণত এক একটি শিবিরে আট হাজার মানুষ আসেন। যাঁরা শিবিরে আসেন তাঁদের মধ্যে গড়ে ৫০০ জনের ছানি অপারেশেন, দেড়শো জনের কানের অস্ত্রোপচার, জনা চল্লিশ রোগীর হাত পায়ের এবং ২৫টি মতো কাটা ঠোঁট ও তালু জোড়া দেওয়ার সার্জারি হয়ে থাকে। দাঁতের সমস্যা নিয়ে শ’আটেক রোগী শিবিরে আসেন। তাঁর মতে, ‘‘প্রথম দিনের সাড়া দেখে মনে হচ্ছে এখানেও সমান সংখ্যক মানুষ ওই পরিষেবা পাবেন।’’