E-Paper

অন্য প্রার্থী হলেও জেতাতে লড়বেন, বার্তা মন্ত্রী সন্ধ্যার

মন্ত্রীর বিরোধীরা রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সন্ধ্যাকে যাতে আর ভোটে টিকিট না দেওয়া হয়, সে জন্য আর্জি জানান। তাঁরা সন্ধ্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ-সহ নানা অভিযোগ জানান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু।

মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। — ফাইল চিত্র।

মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুকে যাতে আর প্রার্থী না করা হয়, সে জন্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন দলেরই নেতা-কর্মীদের একাংশ। তা নিয়ে গত ক’দিন ধরে দলের অন্দরে জলঘোলা চলছে। কিন্তু সোমবার মানবাজার বিধানসভার নেতা-কর্মীদের নিয়ে সন্ধ্যা ও তাঁর ঘনিষ্ঠেরা ভিড়ে ঠাসা সভাঘরে বৈঠক করে বিক্ষুব্ধদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বৈঠকে মন্ত্রী সন্ধ্যা ও তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি গুরুপদ টুডু দু’জনেই বলেন, ‘‘নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, সেটা বড় কথা নয়। যে-ই প্রার্থী হন, আমরা সবাই মিলে তাঁকে জিতিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করব।’’

ওই বৈঠকে সন্ধ্যা ও গুরুপদর বিরোধী বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা-কর্মীরা হাজির হননি। তবে সভার ভিড় তাঁদের স্পষ্ট বার্তা দিল বলে মনে করছেন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠেরা। তবে বৈঠকে এ দিন সমস্ত বক্তাই অনুপস্থিত নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে সচেতন ভাবে নীরব থেকেছেন। সন্ধ্যা ও গুরুপদকে ঘিরে গত ক’দিন ধরে যে সব বিষয়ে চর্চা চলছে, তা নিয়েও নীরব ছিলেন সভার বক্তারা। বিষয়টিকে পরিণত রাজনীতির পরিচয় বলে মনে করছেন অনেকে।

মন্ত্রীর বিরোধীরা রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সন্ধ্যাকে যাতে আর ভোটে টিকিট না দেওয়া হয়, সে জন্য আর্জি জানান। তাঁরা সন্ধ্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ-সহ নানা অভিযোগ জানান। ক’দিন আগে মানবাজারের কুদা গ্রামে সন্ধ্যা ও গুরুপদর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের মতো গুরুতর অভিযোগেপোস্টার পড়েছিল। গুরুপদ সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এ দিন অবশ্য পোস্টার নিয়েও মুখ খোলেননি কেউ।

পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে মানবাজারের পাথরমহড়া গ্রামের লজে ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যার বিরোধীরা বৈঠক করেছিলেন। ঘটনাচক্রে এ দিন পাথরমহড়ার সেই লজেই সন্ধ্যাদের বৈঠকে মানবাজার বিধানসভার ২৩টি অঞ্চলের কর্মীদের উপচে ভরা ভিড় দেখা গেল। যা দেখে উজ্জীবিত মন্ত্রীর অনুগামীরা। তবে দেখা মেলেনি মানবাজার ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সবিতা মুদি, সহ-সভাপতি দিলীপ পাত্র-সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি ও পঞ্চায়েত প্রধানদের। মানবাজার বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা হলেও জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দোপাধ্যায়ও এ দিন ছিলেন না। গুরুপদ জানান, সুজয় বিশেষ কাজে বাইরে আছেন। তবে সভার সাফল্য কামনা করে তিনি ফোনে বার্তা পাঠিয়েছেন।

দলের জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সরেন, জেলা চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতোর মতো জেলা স্তরের নেতাদেরও দেখা যায়নি। বিধানসভার আহ্বায়ক হংসেশ্বর মাহাতো উপস্থিত ছিলেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘দল হারলে কেউ নেতা থাকবেন না। কাজেই নিজের নেতৃত্ব বজায় রাখতে হলে দলের প্রার্থীকে জেতাতেই হবে।’’

দিলীপ পাত্র বলেন, ‘‘সম্মেলনে যোগ দিতে আমাকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি জানিয়েছি আমি সংগঠনের কোনও পদে নেই। এলাকায় যোগ্যদের বঞ্চিত করে যাঁদের সংগঠনের পদে বসানো হয়েছে তাঁরা নিশ্চয় প্রার্থীকে জেতানোর দায়িত্ব নেবেন।’’

তবে এ দিন লজে উপচে পড়া ভিড় দেখে মন্ত্রী অনুগামীদের একাংশের দাবি, বুথ স্তরের কর্মীরাই দলের সম্পদ। দলের পদাধিকারীরা কেউ নয়। আবার বামনী মাঝিহিড়া অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি মহাদেব হালদারের কটাক্ষ, ‘‘পার্টিকে তো এখন কেউ কেউ ‘প্রপার্টি’ বানিয়ে ছেড়েছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

manbazar TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy