মহম্মদবাজারে অবৈধ এবং বিপজ্জনক ভাবে ৯টি পাথর খাদান চলছে বলে অভিযোগ পৌঁছেছিল নবান্নে। রাজ্য সরকারের এক যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অধিকারিক এবং তাঁর এক সহকারী আধিকারিক সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুক্রবার পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকা। তার আগেই অবশ্য মহম্মদবাজারের ওই ৯টি পাথর
খাদান বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে বলে সূত্রের খবর।
বীরভূম জেলার যে চারটি ব্লকে পাথর শিল্পাঞ্চল রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে মহম্মদবাজার। কিন্তু মহম্মদবাজারের তালবাঁধ, নিশ্চিন্তপুর, ঢোলকাটা, শালডাঙা-সহ বিভিন্ন এলাকা অবৈধ খাদানে ভর্তি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনগত মারপ্যাঁচের জন্য লিজ় নেওয়ার সমস্যা থাকায় জেলা জুড়ে দুশোরও বেশি পাথর খাদানের কার্যত ৯৫ শতাংশই বেআইনি। সেই জন্য রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে পাথর বহন থেকে জরিমানা আদায়ের পথ বেছেছে প্রশাসন।
ওই পাথর খাদান এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে বা অন্য কোনও শর্তে আদিবাসীদের থেকে জমি নিয়ে পাথর খাদান করে দেওয়া হয়েছে বিপুল মুনাফার লোভে। সেই সব খাদানের বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সীমানা থেকে নিরাপদ দূরত্ব না থাকায় এলাকায় অসন্তোষ জমেছিল। স্থানীয় আদিবাসীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের মদতে অবৈধ খাদানগুলি তৈরি হয়েছে। যেমন, বারোমেশিয়া আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুন্তিপাড়া প্রাথমিক স্কুল ও শালডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় গাঁ ঘেষেই খাদান রয়েছে। তাতে ঝুঁকি বাড়ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। এ নিয়ে আগেও জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল। পালাবদলের পরেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার ৯টি খাদানের উল্লেখ করে জনৈক এক বাসিন্দা সরাসরি নবান্নে চিঠি পাঠান। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে খাদানগুলি পরিদর্শন করে সেগুলি বন্ধের নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে খাদানের দায়িত্বে থাকা লোকজনকে। তবে, অভিযোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মহম্মদবাজারে এসেছিলেন রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আমলা-সহ দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল।
এর পরে কিছু সূত্রে বলা শুরু হয়েছিল, নবান্নের প্রতিনিধিদলই খাদান পরিদর্শন করে সেগুলি বন্ধ করতে বলে গিয়েছে। যদিও বন্ধের নির্দেশ বীরভূম জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের তরফ থেকেই দেওয়া হয়েছে।
ওই দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘রাজ্য থেকে দুই আধিকারিক এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন, এটা সত্যি। তবে তাঁরা নোটিস দিয়েছেন, এমন খবর নেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)