বর্ষা শুরু হতে অল্প হলেও ডেঙ্গি ছড়িয়েছে বাঁকুড়া জেলায়। স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, ডেঙ্গি ছড়ানোর প্রবণতা এখনও গত বারের তুলনায় কম। তবে নজরদারিতে খামতি রাখা হচ্ছে না। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “সারা জেলায় ডেঙ্গি মোকাবিলায় কর্মসূচি চলছে। স্বাস্থ্য দফতরও সজাগ রয়েছে। শীঘ্রই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকে বসব।” আক্রান্তের সন্ধান মিললেও পুরুলিয়ায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়, দাবি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের।
বাঁকুড়া স্বাস্থ্য-জেলার সাম্প্রতিক তথ্যে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতি বছরে ৩৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। সক্রিয় রোগী রয়েছেন দু’জন। এ বছরে ডেঙ্গিতে এখনও কারও মৃত্যু হয়নি। এ দিকে, শুক্রবার পর্যন্ত বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য-জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ২৭।
বাঁকুড়া স্বাস্থ্য-জেলার আওতায় বাঁকুড়া সদর ও খাতড়া মহকুমায় ১৬টি ব্লক ও বাঁকুড়া পুরসভা রয়েছে। ২০২৪-এ বাঁকুড়া শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেঠারডাঙা ও ওন্দা ব্লকের পুনিশোলে ডেঙ্গি ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। দু’এলাকায় প্রায় হাজার খানেক বাসিন্দা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। অনেককে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করাতে হয়। আক্রান্তদের কেউ কেউ মারাও যান। তবে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছিল, মৃতদের অন্য রোগও ছিল।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি ডেঙ্গি রোগী মিলেছে মেজিয়া ও গঙ্গাজলঘাটিতে। ওই দুই ব্লকে চার জন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া, বাঁকুড়া শহর, ইঁদপুর, সারেঙ্গা, শালতোড়া ও বড়জোড়া ব্লক থেকে তিন জন করে ডেঙ্গি রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। বাঁকুড়া ১, ওন্দা, খাতড়া, রাইপুর, রানিবাঁধ, সিমলাপাল ব্লকে দু’জন করে এবং তালড্যাংরা, ছাতনা, বাঁকুড়া ২ ব্লকে এক জন করে ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। শুধু হিড়বাঁধ ব্লকেই এখনও ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি বলে দফতর সূত্রে খবর।
বাঁকুড়া স্বাস্থ্য-জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (২) দেবব্রত দাস জানান, আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্তদের চিহ্নিত করছেন। প্রথমে ম্যালেরিয়া নির্ণয় ও এক টানা ছ’দিন জ্বর থাকলে ডেঙ্গি নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হচ্ছে। গ্রাম ও পুরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক মশা নিরোধক দল গড়ে জমা জলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত রিপোর্ট নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।
তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর এখনও ডেঙ্গির প্রকোপ কম। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও বেড়েছে। আমাদের লক্ষ্য, দ্রুত রোগ নির্ণয় করে রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা।” তিনি জানান, যে এলাকায় ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান মিলছে, সেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এলাকাবাসীকে সচেতন করায় জোর দেওয়া হচ্ছে। পুনিশোল ও কেঠারডাঙার মতো ডেঙ্গি-প্রবণ এলাকায় নিকাশি ও সচেতনতায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য-জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (২) অরবিন্দ হালদার জানান, ‘ভিআরপি’ ও ‘ভিসিটি’-র দল বাড়ি বাড়ি ঘুরে সমীক্ষা করত। সাধারণ মানুষকে সচেতনও করত। তারা বর্তমানে সক্রিয় নেই। দফায় দফায় স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এ দিকে, পুরুলিয়ায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয় বলে দাবি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রতি মাসে জেলাশাসকের নেতৃত্বে জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে ডেঙ্গি-সহ অন্য মশাবাহিত রোগের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা স্বাস্থ্য দফতরও নিয়মিত বৈঠকে ডেঙ্গি-সহ অন্য রোগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, বর্ষায় পতঙ্গবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর কী কী পদক্ষেপ করবে, তার বিশদ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হচ্ছে কি না, নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)