Advertisement
E-Paper

জামাইষষ্ঠীর আগে সস্তায় আম, মেলা ফুরলো এক বেলাতেই

জামাইদের কপালে যদি হাফ ছুটি জোটে, শাশুড়িদের বরাতও কম যায় না। বাজারে যে হিমসাগরের দাম চড়তে চড়তে কেজি প্রতি ৬০ টাকা ছুঁয়েছে, সেটাই পেয়ে গেলেন ৪৫ টাকায়। আর তাতেই দু’ দিনের সরকারি আম মেলা এক দিনেই কার্যত শেষ হয়ে গেল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৬ ০৭:৩৭
উদ্বোধনের পরে মেলা ঘুরে দেখছেন  জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র।

উদ্বোধনের পরে মেলা ঘুরে দেখছেন জেলাশাসক। নিজস্ব চিত্র।

জামাইদের কপালে যদি হাফ ছুটি জোটে, শাশুড়িদের বরাতও কম যায় না। বাজারে যে হিমসাগরের দাম চড়তে চড়তে কেজি প্রতি ৬০ টাকা ছুঁয়েছে, সেটাই পেয়ে গেলেন ৪৫ টাকায়। আর তাতেই দু’ দিনের সরকারি আম মেলা এক দিনেই কার্যত শেষ হয়ে গেল।

জেলা গ্রামোন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের উল্টো দিকে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ২ দিনের আম মেলা বসেছিল। নাম ‘অমৃত সংবাদ’। পুরুলিয়ার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি যে আম চাষ করে, মেলায় তারই পসরা ছিল। বৃহস্পতিবার মেলাটি উদ্বোধন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী।

গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস জানান, সাধারণত অম্বুবাচীর সময় তিন দিন ধরে এই মেলা হয়। কিন্তু পর পর দু’ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় এই মরসুমে আমের ফলন কম হয়েছে। তাই তিন দিন ধরে মেলা চালানো সম্ভব ছিল না। ঠিক করা হয়েছিল, জামাইষষ্ঠীর সময় দু’ দিনের মেলা করা হবে।

Advertisement

পুঞ্চার মুদিডি গ্রামের মুদিডি ফার্মার্স ক্লাবের মথুর মুদি, রাজীব মুদি, খেদন মুদি বা কাশীপুরের বেলাডাঙা গ্রামের জানিক বাউরিরা আম নিয়ে মেলায় এসেছিলেন। নিয়ে আসা সমস্ত আম এক বেলাতেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। শহরের গুণময় ভকত, সন্ধ্যা মাহাতো, সুতপা মাহাতোরা মেলার প্রথম দিনে ব্যাগ ভরে আম্রপালি, মল্লিকা, হিমসাগর নিয়ে ফেরার পথে বলেন, ‘‘এই দামে তো আর পাব না।’’ দফতরের এক আধিকারিকের মন্তব্য, ‘‘মেলার প্রথম দিনেই বিক্রিবাটা যা হয়েছে, লালমোহনবাবু থাকলে বলতেন, সেলিং লাইক হট কচুরিস।

শুক্রবার জামাইষষ্ঠীর দুপুরে মেলায় গিয়েছিলেন পুরুলিয়া শহরের বর্ণালী রায়। ফাঁকা হাতে ফিরতে হয়েছে। পসরা শেষ। খাঁখাঁ করছে ফাঁকা স্টল। ফেরার পথে আম না পাওয়ায় গজগজও করতে শোনা গেল অনেককে। বাবলু জানা নামে এক বিক্রেতার দেখা মিলল ফাঁকা স্টলে। তিনি বলেন, ‘‘আজকেও অনেকে আসছেন। কিন্তু সবাইকেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। একে ফলন কম। তার উপরে জামাইষষ্ঠী আগে মেলা হওয়ায় এমন কাণ্ড হল।’’

গুণগত মান, স্বাদ, আকার— এই সমস্ত বিচার করে মেলায় আমের জন্য পুরস্কারেরও বন্দোবস্ত ছিল। জেলা উদ্যান পালন দফতরের উপ-অধিকর্তা সুদীপ ভকত এবং জেলা গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক অণিমেষ ঘোষ জানান, আম্রপালি আমের জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাঘমুণ্ডির শরিতা মুড়া। মল্লিকার জন্য শচীন্দ্রনাথ মাহাতো। রাজ্য সরকারের মাটি উৎসবে ‘উদ্যানরত্ন’ পুরস্কার পাওয়া শচীন্দ্রনাথবাবুকে আম্রপালি ও হিমসাগরের জন্যও বিশেষ পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy