E-Paper

স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে সংশয়ের জের, ধীরে চলো নীতি

চিকিৎসা শেষে বিল যাচাই করে টাকা হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সেই প্রক্রিয়া এখন থমকে বলেই অভিযোগ।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১০:৪০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এই রাজ্যেও চালু হবে বলে ভোটের প্রচারে একাধিক বার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই আবহে ভোটে বিজেপির বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় আসার পরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পটি চালু থাকবে কি না, সে প্রশ্নে সংশয়ে জেলার বিভিন্ন নার্সিং হোম এবং বেসরকারি হাসপাতাল। রোগীরাও পড়েছেন আতান্তরে।

সূত্রের খবর, রোগী ভর্তি করা নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে কোনও কোনও নার্সিং হোম ও হাসপাতাল। তাদের দাবি, ফল প্রকাশের পর দিন থেকেই স্বাস্থ্যসাথী সেল থেকে সাড়া মিলছে না। রোগী ভর্তির অনুমোদন বা টাকা পাওয়ার বিষয় নিয়ে তারা ধোঁয়াশায়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রোগী বেসরকারি হাসপাতালে বা নার্সিং হোমে গেলে আধার ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কার্ডটি ব্লক করে অনুমোদন দেওয়া হয় প্রশাসনিক ভাবে। চিকিৎসা শেষে বিল যাচাই করে টাকা হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সেই প্রক্রিয়া এখন থমকে বলেই অভিযোগ। এই অবস্থায় রোগীদের উদ্বেগ, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কবে চালু হবে, তা কেউ জানেন না। এখন জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কাজে না লাগলে তাঁরা কী করবেন?

অল বেঙ্গল প্রাইভেট নার্সিং হোম অ্যান্ড হসপিটাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বীরভূম জেলা সম্পাদক তথা সংগঠনের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক তাহের শেখের দাবি, ‘‘আমরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এখনও রোগীদের ভর্তি করছি। যতক্ষণ না নতুন সরকারের তরফে এ বিষয়ে নির্দেশ আসবে, ততক্ষণ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’’ যদিও জেলা স্বাস্থ্য দফতের এক কর্তা বলেন, ‘‘পরবর্তী সরকারের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমরাও এ ব্যাপারে অন্ধকারে।’’

তাহের শেখ সব রোগী ভর্তি নেওয়ার দাবি করলেও জেলার একাধিক নার্সিং হোম এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আড়ালে জানাচ্ছেন, খুব প্রয়োজন না হলে (বিশেষত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে) এখনই রোগী ভর্তি করছেন না তাঁরা। কারণ, প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে টাকা আদৌ পাবেন কি না, জানা নেই। ফলে কয়েকটা দিন দেখে নিতে চাইছে নার্সিং হোম ও বেসরকারি হাসপাতাল। এটাই সমস্যা বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের।

তৃণমূল সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’—এই দু’টি সরকারি প্রকল্পেই ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা করেনি শাসক তৃণমূল। এখানে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে উপকৃত হচ্ছিলেন বহু রোগী। কিন্তু, সরকার বদলে যাওয়ায় প্রকল্প নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। জেলা বিজেপির এক নেতার দাবি, ‘‘আগে মন্ত্রিসভা গঠন হোক। তার পরেই সব উত্তর মিলবে।’’

দুবরাজপুরের একটি নার্সিং হোম সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়ালিসিসের মতো রোগী এলে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে টাকা পাওয়া যাবে কি যাবে না, সে কথা মাথায় রেখেই এমন জরুরি রোগীকে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, যে সব রোগীকে অপেক্ষা করানো যায়, তাঁদের অনুরোধ করা হচ্ছে দিন কয়েক পরে ভর্তি হতে। সিউড়ির একটি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কিছু রোগীকে আপাতত অপেক্ষা করতে বলতেই হচ্ছে। যদি টাকা না মেলে, সেই সংশয়ে। বোলপুরের একটি নার্সিং হোম জানিয়েছে, রোগী ভর্তি নিলেও তারা চিন্তায় আছে স্বাস্থ্যসাথীর টাকা আদৌ পাবে কি না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suri TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy