রাজ্য জুড়ে তৃণমূল বিধায়ক, সাংসদ, নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট হয়েছে। এমনকি, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমে পাঁচ তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে খবর। সেই তালিকায় রয়েছেন চন্দ্রনাথ সিংহ, রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ, মোশারফ হোসেন, বিধান মাঝি এবং কাজল শেখ। ঘটনাচক্রে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হুকুম’ উপেক্ষা করে যে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বীরভূমের ওই পাঁচ জন। তার পরেই তাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সাঁইথিয়ার বিধায়ক কাজলে জন্য বরাদ্দ ছিল তিন জন নিরাপত্তারক্ষী। তা বৃদ্ধি করে এখন পাঁচ জন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথের নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে চার করা হয়েছে। মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ, নানুরের বিধায়ক বিধানের নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেন হঠাৎ এই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হল, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পরে বীরভূমের বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কাজল, চন্দ্রনাথ, অনুব্রত মণ্ডল-সহ বেশ কয়েক জন। এখন অনুব্রতের কাছে কার্যত কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই বলে তাঁর ঘনিষ্ঠমহলের একাংশের দাবি। এই আবহে চন্দ্রনাথ-সহ পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি নিয়ে চলছে জল্পনা।
বীরভূমে ১১টি বিধানসভা আসন রয়েছে। তার মধ্যে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সেই পাঁচ তৃণমূল বিধায়কই ঋতব্রতকে ‘বিরোধী দলনেতা’ হিসাবে সমর্থন জানিয়েছেন। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রতকে সমর্থন করেন। বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতের নেতৃত্বে কয়েক জন তৃণমূল বিধায়ক। ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি জমা দেন তাঁরা। সেই চিঠি স্পিকার গ্রহণ করেন। তার পরে ঋতব্রতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরোধী দলনেতার পদ দেওয়া হয়।
বিধানসভার সইকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তৃণমূলে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান, তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপনই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত করছে সিআইডি। এই আবহে ঋতব্রতের সমর্থনে থাকা পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হল জল্পনা।