Advertisement
E-Paper

গুজব ছড়ানোর নালিশ, ধৃত ওঝা দম্পতি

কোতুলপুর ব্লকের মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহানন্দ কুণ্ডুর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কোতুলপুর থানার বাসুদেবপুর গ্রাম থেকে ওঝা দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অগস্ট ২০১৭ ১১:৩০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

গুজব ছড়িয়েছিল, স্কুলের শৌচাগারে ‘ভূত’ রয়েছে। তাতেই আতঙ্কিত হয়ে একে পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ বার সেই গুজব ছড়ানোয় অভিযুক্ত ওঝা দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

কোতুলপুর ব্লকের মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহানন্দ কুণ্ডুর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কোতুলপুর থানার বাসুদেবপুর গ্রাম থেকে ওঝা দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।

এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাস (বিষ্ণুপুর) বলেন, ‘‘ধৃতদের নাম শীতল বাগ ও শিখা বাগ। তাঁদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।’’ বিষ্ণুপুর আদালত ধৃতদের ১৪ দিন জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

প্রধান শিক্ষক জানান, হাজরাপুকুর গ্রামের বাসিন্দা দশম শ্রেণির এক ছাত্রী কিছু দিন আগে স্কুলের শৌচাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সঙ্গে সঙ্গে কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ বোধ করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু বাড়ি গিয়ে ফের অসুস্থ বোধ করায় ওই ছাত্রীর পরিজনেরা পাশের গ্রাম বাসুদেবপুরে দুই ওঝার কাছে নিয়ে যায় তাকে।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ‘‘সেখানে শীতল বাগ ও শিখা বাগ নামের দুই ওঝা ঝাড় ফুঁক করে নিদান দেন, স্কুলের শৌচাগারে ভূত রয়েছে। মন্দ হাওয়ায় ছাত্রীটি অসুস্থ হয়েছে। সে কথাই ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভুল ধারণা নিয়ে শৌচাগারে ঢুকে পরে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর জন্য ওই ওঝা দম্পতির বিরুদ্ধে আমি কোতুলপুর থানায় অভিযোগ করি।’’

গত ক’দিন ধরে আতঙ্কের জেরে স্কুলে পঠনপাঠন প্রায় শিকেয় ওঠার অবস্থা হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। স্কুলের শৌচাগার সাফ-সুতরো করা হয়।

কোতুলপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক পলাশ দাস এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পৃথা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বেশির ভাগ মেয়েই খালি পেটে বা সামান্য খেয়ে থাকে। ফলে তাদের শরীর এমনিতেই কমজোর। অসুস্থ হওয়ার মূল কারণ ওই শারীরিক দুর্বলতাই।’’ তাঁদের মতে, একটা ‘প্যানিক’ থেকে এই কাণ্ড ঘটছে।

সোমবার ওই স্কুলে সচেতনতা শিবির করে প্রশাসন। স্কুলে আসেন বিডিও (কোতুলপুর) গৌতম দত্ত, কোতুলপুর থানার পুলিশ আধিকারিক, মির্জাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নমিতা পাল।

বিডিও ছাত্রীদের জানান, কারও কথা শুনে নয়, বিজ্ঞান ও যুক্তি এবং নিজেদের শিক্ষা দিয়ে তারা যেন বিষয়টিকে বোঝে। তা হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্যেরাও পড়ুয়াদের ভয় কাটানোর চেষ্টা চালান।

মঙ্গলবার থেকে অবশ্য স্কুলে স্বাভাবিক পঠনপাঠন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘‘পঠন পাঠন স্বাভাবিক। আর কেউ অসুস্থ হয়নি।’’ এ দিনও ওই স্কুলে গিয়ে বিডিও নিজে মেয়েদের ক্লাসে গিয়ে বোঝান। বিজ্ঞান মঞ্চও সচেতনতার শিবির করেছে। শৌচাগারও নিয়ম করে পরিষ্কার করা হচ্ছে।

সামনেই ইউনিট টেস্ট থাকায় পড়াশোনা স্বাভাবিক গতিতে চলায় স্বস্তি পেয়েছে ছাত্রছাত্রীরাও।

তবে এ দিন বিষ্ণুপুর আদালতে ধৃত দুই ওঝা অবশ্য কবুল করেছেন, ‘‘কোথাও ভুত-টুত বলে কিছু নেই। সবই মনের ভুল।’’

Kotulpur School Superstition কোতুলপুর
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy