E-Paper

স্কুল গড়তে সাহায্য ছিল শ্যামাপ্রসাদের

রাজ্য সরকারের নির্দেশে এ বছর প্রথম রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালিত হচ্ছে। সেই আবহেই বোলপুরের অনতিদূরে অবস্থিত বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ও যেন তার প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫২
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বোলপুর বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বোলপুর বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়। — নিজস্ব চিত্র।

৮৪তম বর্ষে পড়ল বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর একটি ছবি এখনও সযত্নে রাখা আছে স্কুলের দেওয়ালে। স্কুলটি তিলে তিলে গড়ে তোলার সময়কালে সহযোগিতা করেন শ্যামাপ্রসাদ, স্কুলেও আসেন।

রাজ্য সরকারের নির্দেশে এ বছর প্রথম রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালিত হচ্ছে। সেই আবহেই বোলপুরের অনতিদূরে অবস্থিত বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ও যেন তার প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখছে।

১৯৪৩ সালের ৯ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের হাত ধরেই সূচনা হয়েছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা। সেই থেকে প্রতি বছর ৯ জুলাই বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় প্রতিষ্ঠাতাকে। এবারও রাখা হয়েছে একগুচ্ছ অনুষ্ঠান। স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামের রায়দের বাড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত বিষ্ণুপদ রায়চৌধুরী। তিনি প্রথমে কলকাতার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। হিন্দু মহাসভাতেও যোগ দেন তিনি। সেই সূত্রেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। পরে গ্রামে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বিষ্ণুপদ। সেইমতো প্রাথমিক স্কুলও গড়ে ওঠে। তাঁর আহ্বানেই বাহিরীতে আসেন শ্যামাপ্রসাদ।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। স্কুলের নথিপত্রে পাওয়া যায়, প্রতিষ্ঠার দিন গ্রামের মহিলারা শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ গান ও কবিতা পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন গ্রামের প্রবীণ রথীরঞ্জন রায়। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকেই সভাপতির আসনে বসিয়ে সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিচারণ করা হয়। সেই দিনের ছবি আজও সংরক্ষিত।

প্রথমদিকে এটি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠেছিল। শ্যামাপ্রসাদ নিজেই তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁরই নির্দেশে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সকলেই ভর্তির সুযোগ পায়। ২০১৯ সালে স্কুল ৭৫ বছর উদ্‌যাপন করে। প্রতি বছর ৯ জুলাই শুধু প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষাদর্শ ও সমাজ গঠনের ভাবনাকেও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। এ বছরও আগামী ৯ জুলাই একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ কোনার বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি এই অঞ্চলের শিক্ষার ভিত নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর মতো মানুষের জন্মদিন পালন আমাদের কাছে বড় সৌভাগ্যের। তাঁর আদর্শ পাথেয় করেই আগামিদিনেআমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে কাজ করে যাব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Schools Shyama Prasad Mukherjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy