E-Paper

অন্যের বাড়ির উঠোনে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র

শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও সদ্যোজাতের মায়েদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে খেয়াল রাখার দায়িত্ব সুসংহত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্পের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। কিন্তু নানুরের এই কেন্দ্র কোনও স্থায়ী ঠিকানাহীন। বছর দুয়েক ধরে কেন্দ্রটি চলছে জেবুন্নেসা বিবির বাড়ির উঠোনে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০০:৪১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বহু বছর ধরে কখনও রাস্তার পাশে, কখনও গাছের তলায়, বা কারও বাড়ির কোণে ঠাঁই পেয়ে চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। নানুর গ্রামের সংখ্যালঘু পাড়ার ২৬৩ নম্বর কেন্দ্রটি চলছে নিজস্ব কোনও ঘর ছাড়াই। বছর দশেক আগে সরকারি খরচে কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ঘর, যা এখনও রয়ে গিয়েছে জমি মালিকের দখলেই। এর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রকল্প আধিকারিক (সিডিপিও)।

শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও সদ্যোজাতের মায়েদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে খেয়াল রাখার দায়িত্ব সুসংহত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্পের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। কিন্তু নানুরের এই কেন্দ্র কোনও স্থায়ী ঠিকানাহীন। বছর দুয়েক ধরে কেন্দ্রটি চলছে জেবুন্নেসা বিবির বাড়ির উঠোনে। রান্নাবান্নাও চলে সেখানেই। জেবুন্নেসা বলেন, “শিশুদের বসার জায়গা নেই, রান্না করতেও চরম কষ্ট হয়। সে কারণে আমার বাড়িতে জায়গা দিয়েছি।”

জানা গিয়েছে, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে ঘর তৈরি হয়েছিল, লাভলি বিবি নামে এক জনের জমিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটা করে উদ্বোধনও হয়েছিল সেই সময়। কিন্তু সেই ঘর এখনও রয়ে গিয়েছে লাভলির দখলেই। অভিযোগ, সরকারি খরচে তৈরি ঘরে রীতিমতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র বসিয়ে তিনি বসবাস করছেন। যদিও লাভলির দাবি, মেয়ের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে জায়গার উপর ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস পূরণ হয়নি। নিজেকে অসহায় দাবি করে তিনি বলেন, “আমাকে কেউ সহযোগিতা করার নেই, একা বসবাস করি। আমাকে বঞ্চিত না করে, আইনি প্রক্রিয়া মেনে সরকার পদক্ষেপ করুক।”

সংশ্লিষ্ট পাড়ার রহিত শেখ, খালেক শেখ, শিল্পী খাতুন, রহমিনা খাতুন জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির দুরবস্থার জন্য অনেকেই ছেলে-মেয়েকে প্রত্যেক দিন পাঠান না। বর্ষায় বেশ কষ্ট হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি তাঁরা। কেন্দ্রের কর্মী চন্দনা ভারুই কৈবর্ত বলেন, “প্রায় শ’খানেক শিশু ও মা রয়েছেন কেন্দ্রের অধীনে। রান্না ও শিশুদের পড়াশোনা করানোর ক্ষেত্রে চরম সমস্যা হয়।” নানুরের সিডিপিও রাকেশকুমার পাণ্ডে বলেন, “অনেক আগে গৃহ নির্মাণ হয়েছে বলে শুনেছি, বেশি কিছু জানি না। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nanoor Anganwadi Centre Anganwadi Workers

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy