Advertisement
E-Paper

আক্রান্তদের জন্য তৈরি হচ্ছে ছ’টি ‘সেফ হোম’

পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার জানান, ইতিমধ্যেই জেলায় তিনটি ‘সেফ হোম’ গড়ে তোলা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ ০৩:২৫
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

উপসর্গহীন করোনা-আক্রান্তদের বাড়ির বদলে ‘সেফ হোম’-এ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজ্য জুড়ে এমন ২০০টি ‘সেফ হোম’ গড়া হচ্ছে। যার মধ্যে বাঁকুড়া জেলায় তিনটি মহকুমায় একটি করে থাকছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, বাঁকুড়া সদর মহকুমার জন্য ছাতনা যুব আবাস, খাতড়া মহকুমার জন্য খাতড়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমি ও বিষ্ণুপুর মহকুমার জন্য লালগড় সংলগ্ন সরকারি ভবনকে ‘সেফ হোম’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার জানান, ইতিমধ্যেই জেলায় তিনটি ‘সেফ হোম’ গড়ে তোলা হয়েছে। একটি পুরুলিয়া শহরের উপকন্ঠে হাতোয়াড়ার দেবেন মাহাতো সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নবনির্মিত ক্যাম্পাসে। একটি রঘুনাথপুর মহকুমা হাসপাতালের পুরনো ভবনে। অন্যটি জয়চণ্ডীপাহাড় যুব আবাস ক্যাম্পাসে।

বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাতনা যুব আবাসে ৩৫ জন, খাতড়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে ১০০ জন ও লালগড়ের কাছের সরকারি ভবনে ৬০ জনকে রাখার মতো পরিকাঠামো রয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘তিনটি মহকুমায় একটি করে সেফ হোম এখন গড়া হচ্ছে। তবে দরকার পড়লে কোয়রান্টিন সেন্টারগুলিকেও সেফ হোম হিসেবে কাজে লাগানো হবে।” সূত্রের খবর, জেলার বাইশটি ব্লকেই একটি করে ‘কোয়রান্টিন সেন্টার’ রয়েছে। যেখানে প্রায় দু’হাজার মানুষকে রাখা যেতে পারে। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, ‘‘সেফ হোমগুলিতে চিকিৎসক দল মোতায়েন থাকবেন।”

পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে হাতোয়াড়ায় ৯০টি, জয়চণ্ডীতে ৫০টি এবং রঘুনাথপুরে ৩০টি করে শয্যা থাকছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি পুরুলিয়ার সমস্ত বিডিওকে নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন জেলাশাসক। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রতিটি ব্লকে শৌচাগার ও জলের ব্যবস্থা থাকা ‘কোয়রান্টিন’ কেন্দ্র তৈরি রাখতে। জেলাশাসক বলেন, ‘‘প্রতি ব্লকে একটি জায়গায় আক্রান্তদের রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এখন সেফ হোম গড়া হয়েছে। আক্রান্তদের সেখানে রাখা হবে। চিকিৎসকেরা থাকবেন। জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। এই ব্যবস্থায় সুবিধা হবে।’’

পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘‘এ বার যাঁদের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়বে, তাঁদের সেফ হোমে রাখা হবে। আক্রান্তের শরীরে সামান্য উপসর্গ থাকলে, বা কোনও উপসর্গ না থাকলেও এখানেই রাখা হবে। তাঁরা চিকিৎসকের নজরদারিতে থাকবেন। তা ছাড়া পাল্স-অক্সিমিটার যন্ত্রে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করা হবে। যদি দেখা যায় যে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, তা হলে আক্রান্তকে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হবে।’’

পুরলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৮১ জনই পরিযায়ী শ্রমিক। বাকি তিন জনের অন্য রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনা-সংক্রমণ ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘ওই তিন জন বর্তমানে জেলার বাইরে রয়েছেন। জেলায় থাকা ৮১ জনের মধ্যেই কারও কোনও উপসর্গ নেই।’’ বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে শুক্রবার পর্যন্ত ১৭৬ জন করোনা আক্রান্তের কথা জানা গিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশ করা বুলেটিন থেকে। সেই বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই ১৭৬ জনের মধ্যে সক্রিয় আক্রান্ত ১৩৩ জন। তবে আক্রান্তেরা কোন এলাকার বাসিন্দা, তাঁদের মধ্যে ক’জন বাইরে থেকে ফিরেছেন, সে সব জেলা প্রশাসন বা স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানা যায়নি।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy