বিজেপি কর্মী খুনে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করার পর তাকে নিয়ে ইলামবাজারের গোপালনগর গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল সিবিআই। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে দলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও করেন সিবিআই আধিকারিকেরা। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
ভোট গণনার দিন ইলামবাজারের গোপালনগর গ্রামে বিজেপি কর্মী গৌরব সরকারকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও শাসক দলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে সপ্তাহ দু’য়েক ধরে প্রচুর জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ভনা মির্ধা ওরফে দিলীপ মির্ধাকে সোমবার হুগলির শেওড়াফুলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। সে দিনই বোলপুর আদালতে হাজির করানোর পরে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিবিআই। সোমবারই সন্ধ্যায় ধৃতকে নিয়ে গোপালনগর গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিবিআই। তারপর সিবিআই আধিকারিকেরা ইলামবাজারে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন। সেখানে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন থাকেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে একটি নোটিসও ধরানো হয় তৃণমূল কর্মীদের। সূত্রের দাবি, ওই কর্মীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় যে সময় গৌরব খুন হন সেই সময় গোপালনগর গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি কে ছিলেন, বুথ সভাপতি ছাড়াও ওই গ্রামে বুথ কমিটিতে কারা কারা রয়েছেন, ইলামবাজারের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি, সহ ব্লক সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের নাম ফোন নম্বরও নথিভুক্ত করে সিবিআই। তদন্তের স্বার্থে ফের আসার কথাও জানান সিবিআই আধিকারিকেরা।
মঙ্গলবার বিকেলে ফের সিবিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল ইলামবাজারে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছয়। সেখানে বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সঙ্গে গোপালনগর গ্রামে বুথ কমিটির কারা কারা দায়িত্বে রয়েছে তাঁদের নামের একটি তালিকা দলীয় কার্যালয় থেকে এ দিন সংগ্রহ করেন সিবিআই আধিকারিকেরা।
তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সিবিআইয়ের হঠাৎ আসার সমালোচনা করেছেন শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব। ইলামবাজারের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “কাউকে কিছু না জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সিবিআইয়ের কর্তারা এসে মোটেও ভাল কাজ করেননি।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘সিবিআই পুরোপুরি বিজেপির কথায় কাজ করছে। বিজেপি যা বলছে সিবিআই তাই করছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এটা কাম্য নয়।” তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা হলেও তাদেরও আইন মেনে চলা উচিত। এই ভাবে কাউকে না জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়াটা ঠিক হয়নি। এতে মনে হচ্ছে কোথাও যেন অভিসন্ধি লুকিয়ে রয়েছে।’’
ইলামবাজারের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি চিত্তরঞ্জন সিংহের পাল্টা দাবি, “সিবিআই স্বশাসিত সংস্থা। তারা কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয় হাইকোর্টের নির্দেশে কাজ করছে।” বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘‘সিবিআই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তের স্বার্থে তাদের যে কোনও জায়গায় ঢোকার অধিকার রয়েছে। তৃণমূল সিবিআইকে ভয় পেয়ে এই ধরনের কথা বলছে।’’
এ দিনই নলহাটির বিজেপি কর্মী মনোজ জয়সওয়াল খুনের ঘটনায় রামপুরহাট আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের এজলাসে সিবিআই-এর আবেদন জমা পড়ল। মঙ্গলবার অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকার জন্য শুধু মাত্র সিবিআই-এর করা আবেদন জমা হয়। আজ, বুধবার অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর করা জামিনের আবেদনের শুনানির দিন আছে।