বুদ্ধি করে বাড়ি ফিরে এসে মনোনয়ন বাঁচিয়েছেন দলের এক মহিলা প্রার্থী। এমনই দাবি বিজেপির। আর সেই দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল চাপানউতোর।
বিজেপি সূত্রে খবর, সাঁইথিয়ার আমোদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪১ নম্বর বুথের ওই প্রার্থীর নাম বন্দনা বাগদি। তাঁর বাড়ি স্থানীয় ঈশ্বরপুরের বাগদি পাড়ায়। ১০ বছর বিজেপিতে আছেন বছর চল্লিশের বন্দনা বাগদি। বর্তমানে ব্লকের মহিলা মোর্চার সদস্যা। স্থানীয় সাংড়া গ্রামের একটি ব্যাঙ্কে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন বন্দনা। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে বন্দনা ব্যাঙ্কে কাজ করতে গেলে তাঁকে নানা হুমকি দিয়ে দুই তৃণমূল কর্মী মোটরবাইকে করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য ব্লক অফিসে নিয়ে যান।
বন্দনার দাবি, যাওয়ার পথে প্রয়োজনীয় কাগজ ফেলে এসেছেন বলে বাসে চেপে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে ফোনে দলের নেতাদের সব জানান। পরে বিজেপির নেতারা বন্দনাকে পার্টি অফিসে নিয়ে আসেন। বন্দনার স্বামী জগন্নাথ বাগদি বলেন, ‘‘আমাকেও এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি শুনতে হচ্ছে। তবুও স্ত্রীকে শেষ না দেখে ছাড়তে বারণ করেছি।’’ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিজেপি সূত্রে খবর, জগন্নাথ বাগদি মুটের কাজ করেন। তাঁদের দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অন্য দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। বিজেপির সংশ্লিষ্ট ৪ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভাগ্যিস বুদ্ধি খাটিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলেন। না হলে হয়তো তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার আটকানো যেত না।’’ প্রসঙ্গত আমোদপুর পঞ্চায়েতে ২৫টি আসনের মধ্যে ২৩টিতে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। দু’জন প্রত্যাহার করে নেন। এক জনের মনোনয়ন স্ক্রুটিনিতে বাতিল হয়ে গিয়েছে। পাঁচটি আসনে সিপিএমের প্রার্থী রয়েছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, পরাজয়ের আশঙ্কায় শাসকদল মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাড়ি বাড়ি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যদিও বন্দনা নিজে বা বিজেপি-র পক্ষে এই নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ হয়নি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সহ সভাপতি প্রশান্ত সাধু বলেন, ‘‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন অভিযোগ। প্রচার পেতে বিজেপি এ সব নাটক করছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)