×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

স্কুল-বাগানে স্বাদ ফিরেছে পড়ুয়ার পাতে

নিজস্ব সংবাদদাতা
লাভপুর ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:১৫
ফসল: স্কুলের বাগানে পড়ুয়া, শিক্ষকেরা। লাভপুরের ইন্দাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিজস্ব চিত্র

ফসল: স্কুলের বাগানে পড়ুয়া, শিক্ষকেরা। লাভপুরের ইন্দাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিজস্ব চিত্র

কোথাও বাঁশের মাচা থেকে ঝুলছে কুমড়ো। কোথাও পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে গাছে পাকা টম্যাটো।

কোনও চাষির আনাজের খেত নয়, রাসায়নিক আর কীটনাশক-বর্জিত ওই আনাজ বাগান রয়েছে লাভপুরের ইন্দাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিছক শোভাবর্ধন নয়, ওই বাগানের ফসল মিড-ডে মিলের স্বাদেও বৈচিত্র্য ফেরাচ্ছে।

স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিড-ডে মিলের জন্য সরকারি বরাদ্দ ছাত্রছাত্রী পিছু ৪ টাকা ১৩ পয়সা। ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৫০ জন। তার মধ্যে দৈনিক মিড-ডে মিল খায় গড়ে ১১০-১২০ জন পড়ুয়া। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বরাদ্দ টাকায় পড়ুয়াদের থালায় ডাল, ভাত, একটা তরকারির বেশি কিছু দেওয়া যায় না। বছরতিনেক আগে স্কুলের শিক্ষকেরা দেখেন, রোজ একই রকম খাবার খেতে খেতে অনেক পড়ুয়াই মিড-ডে মিল খাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তখন থেকেই বরাদ্দ টাকার মধ্যেই মিড-ডে মিলের স্বাদ বদলের ভাবনা শুরু করেন শিক্ষকেরা।

Advertisement

কথায় রয়েছে— ‘ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়।’ উপায় খুঁজে পান শিক্ষকেরাও। স্কুলের একাংশে অনাবাদী হয়ে পড়েছিল ১-২ কাঠা জমি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানেই আনাজের বাগান তৈরি করেন তাঁরা। টম্যাটো, কুমড়ো, সিম, বেগুনের পাশাপাশি শীতে চাষ করা হয় ফুলকফিও। পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত পরিচর্যা করেন সেই বাগানের।

সেই বাগানের ফসলেই স্বাদে বদল এনেছে মিড-ডে-মিলের খাবারে।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক শুভেন্দু মণ্ডল, শিউলি মণ্ডল, সায়ন চৌধুরী জানান, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এক থাকলেও, আগে মিড-ডে মিল খেত দিনে ৭০-৮০ জন। তা-ও অনেকে খাবার নষ্ট করত। এখন সবাই চেটেপুটে খেয়ে নেয়।

পরেশচন্দ্র গুঁই, সুপ্রকাশ ঘোষ জানান, ‘‘আগে কালেভদ্রে ছাত্রছাত্রীদের পাতে মাছ, ডিম দিতে দিতে পারতাম। কিন্তু আনাজের বাগান তৈরির পর থেকে টাতা বাঁচছে। সে জন্য মাসে এক দিন মাংস, এক দিন মাছ আর ৩-৪ দিন ওদের থালায় ডিম দিতে পারি।’’

মিড-ডে মিলের স্বাদ বদলে খুশি পড়ুয়ারা। চতুর্থ শ্রেণির পৃথীরাজ পাল, তৃতীয় শ্রেণির অরিজিৎ চট্টরাজ বলে, ‘‘আগে প্রতি দিন একই খাবার রান্না হত। মিড-ডি মিল খেতে তখন ভালই লাগত না। এখন দুপুরে স্কুলে খাবার থেকে খুব ভাল লাগে।’’

খুশি অভিভাবকেরাও। অণিমা চট্টরাজ, বুদ্ধদেব চট্টরাজ বলেন, ‘‘আগে মিড-ডে মিলের খাবার মুখে তেমন রুচত না ছেলেমেয়েদের। এখন ওরা কোন দিন কী খেল তা বাড়ি ফিরে গল্প করে।’’

স্কুলে মিড-ডে মিল রান্নার দায়িত্বে রয়েছে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তার দলনেত্রী বাণী দাস বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের তৃপ্তি করে খেতে দেখে আমাদেরও ভাল লাগে। পরিশ্রম সার্থক বলে মনে হয়।’’ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিহিরকুমার শীল জানান, শুধু স্বাদ বদলই নয়, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যও বজায় রেখেছে ওই বাগান। পড়ুয়াদের কথা ভেবেই বাগানে কোনও কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না।

Advertisement