ভোরে উঠে পাঁচটি গৃহস্থ বাড়িতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন দুপুরে। তার পরে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া সেরে ৩টে নাগাদ ফের ওই পাঁচ বাড়িতে কাজ করতে যান। গৃহ-সহায়িকার কাজ করা চিন্তা বাগদি ও গীতা বীরবংশীর দৈনন্দিন যাপনে ঠিক এতটাই মিল! মিল আছে আরও। দু’জনেই এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রার্থী। এবং দু’জনের কেউই আবাস যোজনার ঘর পাননি। এক জনের দাবি, কেন্দ্র টাকা দেয়নি বলে ঘর হয়নি। অন্য জন আঙুল তুলেছেন এলাকার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের দিকে।
বীরভূমের সিউড়ি ১ ব্লকের তিলপাড়া পঞ্চায়েতের কামালপুর গ্রামের ৮ নম্বর পঞ্চায়েত আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছেন তৃণমূলের চিন্তা এবং বিজেপি-র গীতা। যে-ই জিতুন না কেন, গৃহ সহায়িকার কাজ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দু’জনেই। চিন্তা ও গীতার কথায়, ‘‘যে কাজ করে এত দিন সংসার চলেছে, তা তো হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া যায় না।’’
চর্চায় এখন দুই প্রার্থীর আবাস যোজনায় ঘর না-পাওয়া। মাটির বাড়িতেই স্বামী-স্ত্রীর ছোট্ট সংসার চিন্তার। কেন হয়নি পাকা বাড়ি? চিন্তার বক্তব্য, ‘‘আমাদের আগে তালিকায় নাম ছিল না। তবে এখন তালিকায় নাম এসেছে। বাড়ি হওয়ার কথা ছিলছবিও তুলে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এখন পঞ্চায়েতের লোকেরা বলছে, কেন্দ্র থেকে টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেল বলে বাড়ি হচ্ছে না।’’
চিন্তার মতোই এক চিলতে মাটির বাড়িতে বাস করা গীতার আবার দাবি, পানীয় জল থেকে আবাস যোজনা, সব ক্ষেত্রেই তাদের এলাকা বঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এলাকায় বেশির ভাগ বাড়িই মাটির। আবাস যোজনা নিয়ে পঞ্চায়েতের কোনও উদ্যোগই নেই। আমাদের নেতারা তো বলেইছেন, আবাস যোজনার সব টাকা পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতারা ভাগ করে নিয়েছেন। এখানেও একই অবস্থা।’’
তিলপাড়া পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান সন্ধ্যা দাই বলেন, ‘‘২০১৮ সালে আমরা সমীক্ষা করে যে তালিকা তৈরি করি, সেখানে দু’জনেরই নাম আসে। হঠাৎ কেন্দ্র সব টাকা আটকে দিল। তাই ওঁদের বাড়িও করা যায়নি। আবার টাকা এলেই বাড়ি পেয়ে যাবেন।’’
একই পেশায় থাকা দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ মসৃণ। গীতার যদিও দাবি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে ক্রমাগত প্রত্যাহারের চাপ আসতে থাকায় দিন কয়েক সপরিবার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। প্রত্যাহারের সময়সীমা পার করে ফিরেছেন গ্রামে। দু’জনেই জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। গীতার কথায়, “মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পেলে, আমিই জিতব।” অন্য দিকে, যে বাড়িতে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন চিন্তা, তার কর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত, চিন্তা জিতবে। ও পঞ্চায়েতের সদস্য হলে আমাদের গর্বের শেষ থাকবে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)