Advertisement
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাঁকুড়ার কুর্সিতে নতুন মুখ এনে জোর চমক তৃণমূলের

শম্পা দরিপা নন। নন, তাঁর কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত অলকা সেন মজুমদারও! যাবতীয় সমীকরণ উল্টে দিয়ে একেবারে নতুন মুখকে পুরপ্রধান করে বাঁকুড়ায় জোর চমক দিল তৃণমূল। প্রায় এক মাসের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার বাঁকুড়ায় এসে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তকে পুরপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করলেন জেলায় শাসক দলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। উপ-পুরপ্রধান হয়েছেন দিলীপ অগ্রবাল।

ক্ষোভ আছে অনেক। তবু্ হাসিমুখেই নতুন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান শম্পা দরিপা। মাঝে মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

ক্ষোভ আছে অনেক। তবু্ হাসিমুখেই নতুন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান শম্পা দরিপা। মাঝে মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
বাঁকুড়া শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৫ ০০:৩৬
Share: Save:

শম্পা দরিপা নন। নন, তাঁর কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত অলকা সেন মজুমদারও!

যাবতীয় সমীকরণ উল্টে দিয়ে একেবারে নতুন মুখকে পুরপ্রধান করে বাঁকুড়ায় জোর চমক দিল তৃণমূল। প্রায় এক মাসের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার বাঁকুড়ায় এসে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তকে পুরপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করলেন জেলায় শাসক দলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। উপ-পুরপ্রধান হয়েছেন দিলীপ অগ্রবাল।

এ বার পুরভোটে বাঁকুড়া পুরসভায় ১২টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি তৃণমূল। তবে, শাসক দলের বোর্ড গড়ায় যে কোনও বাধা আসবে না, তা কার্যত নিশ্চিত ছিল। হলও তাই। তিন নির্দল কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগদান করায় শেষ পর্যন্ত ১৫ জন কাউন্সিলর নিয়েই বোর্ড গঠন করল শাসক দল। তবে, সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান শম্পা দরিপাকে এ বার চেয়ারম্যান হওয়া থেকে আটকাতে শাসক দলের বেশির ভাগ কাউন্সিলর ও জেলা নেতৃত্বের একাংশ মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তি সিংহ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেবপ্রসাদ (তারা) কুণ্ডুর হারের জন্য শম্পাদেবীর হাত রয়েছে বলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগও করেছিল শম্পা-বিরোধী শিবির। শম্পাদেবীও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে নেত্রীকে বোঝাতে একাধিক বার কলকাতায় ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত দলের আস্থা তিনি পেলেন না। মাস আটেক আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া দু’বারের কাউন্সিলর মহাপ্রসাদবাবুকেই পুরপ্রধানের কুর্সি দিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রথম বার কংগ্রেসের টিকিটেই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছিলেন মহাপ্রসাদবাবু। পরবর্তীকালে বাঁকুড়ার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার যখন শম্পাদেবীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন, মহাপ্রসাদবাবু অনাস্থার সমর্থনেই ছিলেন। তৃণমূলে আসার পরে অবশ্য শম্পাদেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের চেয়ে ভাল হয়েছিল। শম্পাদেবীর নেতৃত্বে পুরসভার নানা অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতেই থাকতেন মহাপ্রসাদবাবু।

তৃণমূল সূত্রে খবর, পুরভোটের সময় থেকে দু’জনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। অন্য দিকে, মহাপ্রসাদবাবু বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। যদিও শ্যামবাবুর সঙ্গে কংগ্রেস ত্যাগ করেননি মহাপ্রসাদবাবু। এ দিনের অনুষ্ঠানে আগাগোড়া উপস্থিত ছিলেন শ্যামবাবু। মহাপ্রসাদবাবু পুরপ্রধান হওয়ার পিছনে শ্যামবাবুর একটা ভূমিকা রয়েছে বলেও মত তৃণমূলের একাংশের। খোদ শ্যামবাবুর কথায়, “মহাপ্রসাদ ও দিলীপ, দু’জনেই আমার খুব কাছের। ওরা পুরসভায় দয়িত্ব পাওয়ায় আমি খুশি হয়েছি। বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া পুরসভা উন্নয়নের পথে এক সঙ্গে পা মিলিয়ে চলবে।’’ জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, “সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়েছে। দলীয় কাউন্সিলরেরাই শুধু নন, বিরোধীদের একাংশও সমর্থন জানিয়েছেন। এই ঘটনা অভূতপূর্ব।’’

এ দিন পুরবোর্ড গঠনের আগে সার্কিট হাউসে দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন শ্যামবাবু, বিধায়ক মিনতি মিশ্র, জেলা সভাধিপতি, জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরূপ খাঁ। বৈঠকেই শুভেন্দু পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধানের নাম ঘোষণা করেন। শম্পাদেবী পুরপ্রধান হচ্ছেন না জানার পরেই হতাশা ছড়ায় তাঁর শিবিরে। পুরপ্রধানের ঘরের সামনে শম্পাদেবীর নেমপ্লেটও খুলে ফেলে দেন বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সির। তবে, উপ-পুরপ্রধান হিসেবে অলকাদেবীর নাম না থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে শম্পা-বিরোধী হিসাবে পরিচিত এই নেত্রীর গোষ্ঠীতেও। অলকাদেবী প্রকাশ্যে অবশ্য বলেছেন, “দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।’’

পুরপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পরে মহাপ্রসাদবাবু তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনে আরও উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাঁকুড়াকে আরও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।’’ শুভেন্দু অবশ্য সব পক্ষকে এক সঙ্গে কাজ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, “সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দল এটাই চায়।’’

এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যকে আটকাতে বিশেষ তৎপর ছিল পুলিশ-প্রশাসন। কেন এই অতিসক্রিয়তা জানতে চাওয়া হলে একে মহকুমাশাসকের নির্দেশ বলেই জানান পুলিশ কর্তারা। জেলাশাসক বিজয় ভারতীর অবশ্য দাবি, “সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কার নির্দেশে এই কাজ করা হল খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE