অনুষ্ঠান ভবনের নাম ‘ছায়াছবি’। হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিষ্ণুপুর অঞ্চলের বসোয়া গ্রামের সেই অনুষ্ঠান ভবনে রবিবারের সকালে দেখা মিলল কাজল শেখের। সেই কাজল, যিনি একাধারে জেলা পরিষদের সভাধিপতি আবার দলের কোর কমিটির উল্লেখযোগ্য এক সদস্য। যাঁর সঙ্গে জেলার রাজনীতিতে কেষ্ট, তথা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ‘দ্বন্দ্বে’র কথা চর্চায় বিষয়। সেই চর্চা পিছু ছাড়ছে না প্রথম বারের বিধায়ক প্রার্থী কাজলকে।
প্রথম বারের জন্য যখনই হাঁসন কেন্দ্রে কাজলের নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন থেকেই জেলায় বিশেষ চর্চার বিষয় এই কেন্দ্র। সেই হাঁসন কেন্দ্রের বসোয়া গ্রামের অনুষ্ঠান ভবনে বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় ঢুকতেই সঞ্চালক অনুষ্ঠানের অনুপ্রেরণার নেপথ্যে কাজল শেখের নাম ঘোষণা করলেন। এক দিনের আয়োজনে প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক প্রতিযোগীকে স্মারক প্রদান করলেন কাজল। জানা গেল, রবিবার বিষ্ণুপুর অঞ্চলে নতুনগ্রাম ও বিষ্ণুপুরে আরও দুটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুপ্রেরণায় আছেন কাজল।
ভোটের বাজারে এক দিনে কেন এত অনুপ্রেরণার অনুষ্ঠান? এলাকার তৃণমূলের এক কর্মী একান্তে জানালেন, ‘‘বিষ্ণুপুর অঞ্চলে বিধানসভা ও লোকসভা দুই নির্বাচনেই তৃণমূল বিজেপির থেকে পিছিয়ে আছে। সেই পিছিয়ে থাকা ভোট পুনরুদ্ধারের এটাও একটা কৌশল।’’ তৃণমূলের বিষ্ণুপুর অঞ্চলের অবজার্ভার মীর আসমার আলি ও অঞ্চলের যুব সভাপতি শুভেন্দু দত্ত বললেন, ‘‘ভোট পুনরুদ্ধারে আরও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।’’
কাজল নিজে অবশ্য জানালেন, ‘‘এই কেন্দ্রে জয় নিয়ে আমি ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। হাঁসন কেন্দ্রের মধ্যে রামপুরহাট ২ ব্লকের ৯টি অঞ্চল এবং নলহাটি ২ ব্লকের ৬টি অঞ্চল নিয়ে মোট ১৫টি অঞ্চলে দলের মজবুত সংগঠনের জোরেই আমি জয়ী হব।’’ সে জন্যই তিনি নিজের বিধানসভা এলাকার প্রচার ছেড়ে অন্য বিধানসভা এলাকাতেও প্রচারে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে দিলেন কাজল।
কাজল অন্যত্র প্রচারে গেলেও অনুব্রতকে হাঁসন কেন্দ্রে প্রচারে সাহাপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চে ছাড়া দেখতে পাওয়া যায়নি। এর কি কোনও গোপন কারণ আছে? কাজলের জবাব, ‘‘কে কোথায় কী করছে আমার জানা নেই। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী।’’ কাজলের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘আমার প্রচারে দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন, তার থেকে কি কেউ বড় নেতা আছে?’’
নেতা নয়, কর্মীরাই তাঁদের জেতাবেন বলে দাবি করছেন কংগ্রেস প্রার্থী, এই কেন্দ্রেরই প্রাক্তন বিধায়ক মিল্টন রশিদও। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের ছোট বড় নেতাদের শাসানি, হুমকিতে দলের কর্মীরা আতঙ্কিত। ভীত-সন্ত্রস্ত ওই সমস্ত লোকজন সম্মানের সঙ্গে থাকতে চান। তাঁদের ভোট আবার কংগ্রেস পাবে।’’
২০২১ সালের আগে পর্যন্ত হাঁসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। ২০২১ সালে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের অশোক চট্টোপাধ্যায় জয়ী হন। ২০১৬ সালে হাঁসনে কংগ্রেস-সিপিএমের জোটের বিধায়ক হয়েছিলেন মিল্টন। এ বারে আবার প্রার্থী হয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মিল্টন। অন্য দিকে, সিপিএম প্রার্থী কামাল হাসান বললেন, ‘‘তৃণমূলের সার্বিক দুর্নীতির বিকল্পে মানুষ সিপিএমকেই ভোট দেবে।’’
বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় কষছেন অন্য অঙ্ক। তাঁর কথায়, ‘‘এসআইআরে ভোটার তালিকায় অধিকাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম বাদ গিয়েছে। সেটা বিজেপির পক্ষে ভাল। আবার বিরোধী তিন প্রধান দলের তিন জনই সংখ্যালঘু প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হলে বিজেপির লাভ।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)