আরও একটি পঞ্চায়েতের দখল নিল শাসকদল।
সিপিএম পরিচালিত মহম্মদবাজারের পুরানগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে চলতি মাসের চার তারিখ অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূল সদস্যেরা। মঙ্গলবার ছিল ভোটাভুটি। বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষ জানান, ৮-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন অনাস্থার পক্ষে থাকা সদস্যেরা।
ব্লক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ আসনের পুরানগ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএম ৭, ফব ৩, তৃণমূল ২ এবং নির্দল একটি আসন পায়। প্রধান পদটি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় সিপিএমের সবরী লেট প্রধান হন। পরে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তিনি প্রধান পদে ইস্তফা দেন। তখন প্রধান হন অষ্টমী বাগদি। এর মধ্যে চার তারিখ প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন তৃণমূলের ২, সিপিএমের ৩ ও ফব-র ৩, মোট ৮ সদস্য। সিপিএম থেকে আসা মইনুল হক, মঙ্গল কিসকুরা দাবি করেছিলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কার্যত তখনই পঞ্চায়েতের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল।
বেশ কিছু দিন ধরেই জেলার বেশ কিছু পঞ্চায়েতের পালাবদল চলছে। দ্বিতীয় ইনিংসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয়ের পরে তা আরও বেড়েছে। বীরভূমে এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ মহম্মদবাজার। সম্প্রতি ক্ষমতা বদল হয়েছে মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতিতেও। সিপিএম থেকে জেতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে জয় পেয়েছে শাসকদল।
গোটা ঘটনায় শাসকদলের ‘দখলদারি’ মনোভাবকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন সিপিএমের জোনাল কমিটির সম্পাদক প্রভাস মাল। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘শাসকদল হওয়ার সুবাদে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে কখনও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের দখলে থাকা একের পর এক পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে চলেছে শাসকদল।’’ সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে এর জবাব দেবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।