Advertisement
E-Paper

কবে সেতু হবে, ক্ষোভ গুনুটিয়ায়

‘হচ্ছে’ আর ‘হবে’— এই আশ্বাস শুনতে শুনতে প্রবীণেরা গত হয়েছেন। বয়সে পাক ধরে নবীনেরাও প্রবীণ হওয়ার পথে। কিন্তু, ফেরিঘাটে নদী পারাপার নিয়ে দুর্ভোগ ঘোচেনি আজও গুনুটিয়া-আমড়ার! ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশেরই অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতিতেই তাঁদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ময়ূরেশ্বরের আমড়া এবং লাভপুরের গুনুটিয়ার মাঝে দিয়ে বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী নদী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০১৫ ০০:৫৮
শুরু হয়েও কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে স্তম্ভ। (ডান দিকে) নদী পারাপারে এলাকার একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সেতু। ছবি: সোমনাথ মুস্তাফি

শুরু হয়েও কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে স্তম্ভ। (ডান দিকে) নদী পারাপারে এলাকার একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সেতু। ছবি: সোমনাথ মুস্তাফি

‘হচ্ছে’ আর ‘হবে’— এই আশ্বাস শুনতে শুনতে প্রবীণেরা গত হয়েছেন। বয়সে পাক ধরে নবীনেরাও প্রবীণ হওয়ার পথে। কিন্তু, ফেরিঘাটে নদী পারাপার নিয়ে দুর্ভোগ ঘোচেনি আজও গুনুটিয়া-আমড়ার!

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশেরই অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতিতেই তাঁদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ময়ূরেশ্বরের আমড়া এবং লাভপুরের গুনুটিয়ার মাঝে দিয়ে বয়ে গিয়েছে ময়ূরাক্ষী নদী। ওই নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ দিনের। বহু টালবাহানার পরে শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। গত বিধানসভা ভোটের মুখে সেতুর শিলান্যাস করেন তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। সেতু নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করা হয়। সেতু তৈরির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ধার্য হয় দু’ বছর। কিন্তু, আজও ওই সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। বরং শুরু হয়েও দীর্ঘ দিন ধরে থমকে রয়েছে ওই কাজ। প্রশাসনের গাফিলতিতেই সেতু নির্মাণে এমন দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

প্রশাসনেরই একটি সূত্রের খবর, সেতু নির্মাণের আগে সমীক্ষার ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা মাথায় রাখা হয়নি। নদীর এক পাড়ে রয়েছে কোটাসুর-রামনগর সড়ক। অন্য পাড়ে বোলপুর-গুনুটিয়া সড়ক। সেতু দিয়ে দুই সড়ককে সংযুক্ত করতে হলে প্রয়োজন ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কিছু জমি। ওই সব জমির মধ্যে রয়েছে আবার ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি নীলকুঠিও। সমীক্ষা অনুসারে দু’পাড়ের সড়ক দু’টিকে সংযুক্ত করতে হলে কুঠির বুক চিরে রাস্তা নির্মাণ করার কথা। কিন্তু, কুঠি-সহ অন্যান্য জায়গার সংস্থান না করেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে দেওয়ায় বিপত্তি দেখা দেয়। দেখা যায়, ওই সব জমি মালিকদের একাংশ আদালতে মামলা দায়ের করে বসেছেন। এর ফলে থমকে যায় সেতু নির্মাণের কাজ। ঠিকাদারি সংস্থার কর্ণধার জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘দু’ বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও নদী লাগোয়া জমির সমস্যার জন্যই তা করা যায়নি। সমস্যা এমনই প্রকট যে জমি মালিকদের বাধায় নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে কাজের জায়গায় পৌঁছনোই যাচ্ছে না। তাই কাজও হচ্ছে না।’’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সমীক্ষার সময় সব দিক খতিয়ে দেখলে এই সমস্যা এড়ানো যেত। সামান্য নীচে সেতু নির্মাণ করা হলে অনায়াসেই নদীবাঁধের উপর দিয়ে সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ করা যেত। কিন্তু, তা না করার ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। কারণ, শুধু লাভপুর কিংবা ময়ূরেশ্বর থানা এলাকাই নয়, লাগোয়া মুর্শিদাবাদ জেলার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ জন জীবন-জীবিকার তাগিদে দিনে একাধিক বার ওই নদী দিয়ে পারাপার করেন। প্রতি বার তাঁদের চড়া ভাড়া দিয়ে বাঁশের সাঁকো কিংবা গাদাগাদি নৌকায় নদী পেরোতে হয়। অনেক সময় নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে।প্রশাসন অবশ্য শেষমেশ নদীবাঁধের উপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে ক্ষোভের মাত্রা আরও চড়েছে ।ময়ূরেশ্বরের রামনগরের রামমোহন প্রামাণিক, লাভপুরের ধনডাঙার সদানন্দ মণ্ডলরা বলেন, ‘‘গুনুটিয়ায় সেতু তৈরির আশ্বাস শুনতে শুনতে আমাদের বাবা-কাকারা প্রয়াত হয়েছেন। আমরাও বৃদ্ধ হতে বসেছি। প্রশাসন একটু সজাগ হলে এত দিন আমাদের নদী পারাপারের দুর্ভোগ ঘুচত। জানি না আরও কত দিন আমাদের সেতুর জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হবে!’’

জেলার সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীর দাবি, ‘‘বাম আমলে ওই সেতু তৈরির সমীক্ষা হয়েছিল। তাই গাফিলতির দায় আমাদের উপর বর্তায় না। তবে, আমরা সমাধান সূত্র খুঁজে দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ সম্পুর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’’ অন্য দিকে, জেলা পূর্ত (হাই ওয়ে ডিভিশন, সড়ক ) দফতরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়র আজফার আলি জানান, জায়গার সমস্যাজনীত কারণে সময়মতো সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে, দফতর নদীবাঁধের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জমির তলিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললেই জমি কিনে বাকি কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

Mayurakshi River Gunutia Amra village Bridge Bikash roy chowdhury
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy