Advertisement
E-Paper

চন্দননগরের সঙ্গে পাল্লা জেলার আলোকশিল্পীদের

পুজো-প্যান্ডেলে আলোর কাজ বলতে আগে চন্দননগরই ছিল শেষকথা। এখন তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে জেলা। বড় বাজেটের পুজোগুলিও আস্থা রাখছে জেলার আলোকশিল্পীদের উপরেই।

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৩০
আলোকসজ্জা: চলছে আলোর কাজ। নিজস্ব চিত্র

আলোকসজ্জা: চলছে আলোর কাজ। নিজস্ব চিত্র

পুজো-প্যান্ডেলে আলোর কাজ বলতে আগে চন্দননগরই ছিল শেষকথা। এখন তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে জেলা। বড় বাজেটের পুজোগুলিও আস্থা রাখছে জেলার আলোকশিল্পীদের উপরেই।

বোলপুর সিউড়ি ও বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে মোট তিনটি বড় বাজেটের পুজোর আলোকসজ্জার দায়িত্ব পেয়েছেন দুবরাজপুরের আলোকশিল্পী রাজা দাস। কাঠের ফ্রেমের উপর সাঁটা পলিথিন সিটের একটার পর একটা এলইডি ল্যাম্প বসিয়ে রাজা ফুটিয়ে তুলছেন বিভিন্ন নকশা। তবে শুধু এলইডি বোর্ডেই নয় রাজা এবার জোর দিয়েছেন পিক্সেল এলইডি এর কাজেও। রাজার হাতেখড়ি ৭৩ বছর বয়সী দাদু নারায়ণ কবিরাজের কাছে। নাতির সঙ্গে এ বারও কাজে হাত লাগিয়েছেন তিনি। উপায় কী! বরাতের অঙ্ক কম বেশি ৫ লক্ষ টাকা যে! সঙ্গে বজায় রাখতে হবে সুনাম।

এই প্রবণতা বাড়ার পিছনে মূলত দু’টি কারণ উঠে আসছে। তার প্রথমটি যদি হয় কম খরচে আলোকসজ্জার বন্দোবস্ত করা, দ্বিতীয়টি অবশ্যই জেলার শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়া। সেই সুবাদে দম ফেলার ফুরসত নেই রামপুরহাটের আলোকশিল্পী সুব্রতকুমার মণ্ডল ওরফে দীপুরও। রামপুরহাটের বেশ কয়েকটি বড় পুজোর আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন সুব্রত। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। সু্ব্রত বলেন, ‘‘চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের জাতই আলাদা। তাঁদের সমকক্ষ না হতে পারলেও একটা মানে পৌঁছতে পেরেছি। যা স্থানীয় বড়বাজেটের পুজো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কাজ পেতে সাহায্য করেছে।’’

সাঁইথিয়া বাতাসপুরের তরুণ আলোকশিল্পী সৌরভ সূত্রধরও এ বার আমোদপুর এবং মহম্মদবাজারের দু’টি বড় পুজোর আলোকসজ্জার দায়িত্ব পেয়েছেন। বাজেট প্রায় দু’লক্ষ। বর্ষীয়ান আলোকশিল্পী নারায়ণবাবু বলছেন, ‘‘একসময় বড় পুজো উদ্যোক্তারা বাইরে থেকে আলো নিয়ে আসত। বিশেষ ভরসা থাকত চন্দননগরের উপর। এলইডি এসে যাওয়ায় একটা নতুন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। ছোট্ট আকারের আলোগুলিতে একটি আলোর রং পরিবর্তিত হতে পারে সাত রঙে।’’ আগে অবশ্য বিষয়টা সহজ ছিল না।

আলোকশিল্পীদের কথায়, এক সময় বাল্ব চেনের মতো পর পর জুড়ে দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হত। তার পরে এল নিয়ন আলো। আরও পরে টুনি বাল্ব। সে যুগও আবার এখন আর নেই। গত এক দশক ধরে চলছে এলইডি-র দখলদারি। আলোর যে কোনও ধরনের নকশা বা কারিগরি ফুটিয়ে তুলতে এর জুড়ি নেই। একই সঙ্গে কম্পিউটার সফ্‌টওয়্যার প্রোগ্রাম চিপ বা সার্কিট বোর্ড নকশার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় বলে যে ভাবে খুশি যেমন খুশি আলোগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিদ্যুৎ খরচও একেবারে কম। এবং ডাইরেক্ট কারেন্টে না চলে ডিসি কারেন্টে চলে বলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও কম থাকে।

তবে এখনও চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কাটেনি বলেই অনেকের মত। হুগলির ওই শহর থেকেই মাপ মতো নকশা আঁকিয়ে নিয়ে আসা হয়। সেই নকশার উপর আলো বসিয়েই সাজিয়ে তোলা হবে আলোর মালা। জেলার অনেক আলোকশিল্পীই প্রোগ্রাম সার্কিট কলকাতা বা চন্দননগর থেকে নিয়ে আসেন। এর থেকে অনুকরণ করে অনেকে আবার নিজেরাও বানানোর চেষ্টা করেন।

রামপুরহাটের নবীন ক্লাবের পুজোর বাজেট অনেকটাই বেশি। তবে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে তারা জেলার শিল্পীর উপরেই আস্থা রেখেছেন। তাঁদের পুজোর আলোর দায়িত্ব দিয়েছেন শিল্পী সুব্রত মণ্ডলকে। ক্লাব সম্পাদক উজ্জ্বল ধীবর বলছেন, ‘‘কী হবে চন্দননগর থেকে আলো এনে? ওখানকার আলোকশিল্পীদের বাজেট অনেক বেশি। সেখানে অনেক কম দরে প্রায় কাছাকাছি মানের কাজ পেলে কেন স্থানীয় শিল্পীকে কাজ দেব না।’’

বোলপুরের বাঁধগড়া ইউনাইটেড ক্লাবের পুজো এবার ৭৮ তম বর্ষে পড়ল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রায় ২ লক্ষ টাকা বাজেটের আলোর দায়িত্ব দিয়েছেন দুবরাজপুরের রাজাকে। ক্লাবের পক্ষে কিশোর দাস ও কিশোর নাথেরা জানান, তাঁরা চন্দননগরের যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু ওই বাজেটের থেকে কমে প্রায় সমমানের কাজ জেলাতেই পাচ্ছেন। অনেক বেশি পরিমাণে আলো পাচ্ছেন স্থানীয় ওই শিল্পীর কাছ থেকে। তাই ঘরের মানুষের উপরই ভরসা রাখছেন।

Light Artist Chandannagar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy