Advertisement
E-Paper

ক্ষোভ ছড়িয়েছে মানবাজারে

নিকাশি নালা রয়েছে, অথচ জল বের হাওয়ার জায়গা নেই। এমনই অবস্থায় বেড়ে চলেছে মানবাজার। সাবেকি আমলে তৈরি করা নিকাশি নালা আবর্জনায় বুজে যাচ্ছে। সাফাইয়ের বালাইও নেই। ফলে রাস্তা ভাসছে নোংরা জলে। নিকাশি নালা থেকেও কার্যত নিকাশি-হীন হয়ে রয়েছে মানবাজার। ব্লক সদর হলেও মানবাজার গত কয়েক দশকে আড়েবহরে বেড়েছে। পুরসভার স্বীকৃতি আদায়ের দাবি নিয়ে তদ্বিরও চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৪ ০০:৫১
নালার জলে উপচে রাস্তায়। দুর্ভোগের যাতায়াত। —নিজস্ব চিত্র

নালার জলে উপচে রাস্তায়। দুর্ভোগের যাতায়াত। —নিজস্ব চিত্র

নিকাশি নালা রয়েছে, অথচ জল বের হাওয়ার জায়গা নেই। এমনই অবস্থায় বেড়ে চলেছে মানবাজার। সাবেকি আমলে তৈরি করা নিকাশি নালা আবর্জনায় বুজে যাচ্ছে। সাফাইয়ের বালাইও নেই। ফলে রাস্তা ভাসছে নোংরা জলে। নিকাশি নালা থেকেও কার্যত নিকাশি-হীন হয়ে রয়েছে মানবাজার।

ব্লক সদর হলেও মানবাজার গত কয়েক দশকে আড়েবহরে বেড়েছে। পুরসভার স্বীকৃতি আদায়ের দাবি নিয়ে তদ্বিরও চলছে। কিন্তু, বাসিন্দাদের ন্যূনতম পরিষেবাও নেই এখানে। এমনই অভিযোগ তুলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। নিকাশি নিয়ে সমস্যা বারোমাসের ঘটনা। কিন্তু এই বর্ষায় তা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি কিছু এলাকায় নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজ হয়েছে। কিন্তু তাতে কতদিন জল জমা থেকে মুক্ত থাকবে এলাকা তা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্নের শেষ নেই।

বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা, রাস্তার দু’পাশে নালাগুলি দিয়ে প্রথম দিকে জল বেরিয়ে গেলেও ছ’মাস যেতে হবে না, তার আগেই আবর্জনা পড়ে নালা ভরাট হয়ে যাবে। তখন সামান্য বৃষ্টিতেই নালার জল মিশে নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি হবে। দোকানদাররা নিজেদের দোকানের সামনে রাখা নোংরা জলের চৌবাচ্চা খুলে দেন। বর্জ্যের গন্ধে পরিবেশ তখন দূষিত হয়ে পড়ে। রাস্তার উপর নোংরা জল ও বর্জ্য মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হবে। এটাই মানবাজারের বাসিন্দাদের ভবিতব্য। সমস্যার মূল একটাই, নিকাশি নালার কোনও ‘আউটলেট’ নেই।

মানবাজার নামোপাড়ার বাসিন্দা প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়, মিন্টু চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রায় দেড় বছর পরে শহরের নিকাশি নালাগুলি সাফাইয়ের কাজ হল। কিন্তু তা আর ক’দিন সাফসুতরো থাকবে? তিন দশক আগে রাস্তার দু’পাশে নালা তৈরি করা হলেও ছ’ইঞ্চি চওড়া এবং এক ফুট গভীর নালাগুলি অপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে। নালার শেষ কোথায় তা কেউ জানেন না। জল বের হওয়ার কোনও রাস্তাই নেই।” তাঁদের আক্ষেপ, শহরে জনবসতি বেড়ে চলেছে। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থা সেই মান্ধাতার আমলেই পড়ে রয়েছে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন রয়ে গিয়েছে।

মানবাজারের ইন্দকুড়ির বাসিন্দা রঘুনাথপুর পুরসভার কর্মী অমল দত্তের অভিযোগ, “সম্প্রতি আমার বাড়ির দরজার সামনে নালা ছাপিয়ে নোংরা জল বইছিল। বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি।” মাঝপাড়ার ছাপাখানার মালিক বাপি মুখোপাধ্যায় বলেন, “নিয়মিত নালা সাফ করা হলেও সমস্যা এত বাড়ত না। দেড় বছরে একবার মাত্র নালা পরিষ্কার করা হয়। তাই নালা ছাপিয়ে নোংরা জল, আবর্জনা লোকের বাড়িতে, দোকানে ঢুকে যাচ্ছে।”

মানবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সিপিএমের নিতাই দত্ত বলেন, “নালা তৈরির সময়ে পরিকল্পনায় ফাঁক থেকে গিয়েছিল। শহরের নালাগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া নালার জল কোথায় গিয়ে মিশবে সেটাও ভেবে দেখা হয়নি। ফলে নালার জল আপন গতিতে যেখানে পেরেছে বয়ে চলেছে। সেই ত্রুটির কুফল ভোগ করছি আমরা।”

নিতাইবাবু ইতিপূর্বে বাম আমলে মানবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। সম্প্রতি মানবাজার পঞ্চায়েতে সিপিএম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সংরক্ষণের গেরোয় প্রধান পদটি তৃণমূল পেয়েছে। মানবাজারের প্রধান তৃণমূলের বাসন্তী মুর্মু আবার নিকাশি নিয়ে ওই গোলমালের দায় চাপিয়েছেন সিপিএমের উপর। তাঁর অভিযোগ, “পঞ্চায়েতের অর্থ বিষয়ক কমিটিতে সিপিএমের সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য রয়েছেন। তাই শহর পরিষ্কার রাখার দায় ওদেরও রয়েছে।”

মানবাজারের বিডিও সায়ক দেব বলেন, “নালা পরিষ্কারের জন্য আলাদা করে কোনও বরাদ্দ নেই। এ গুলি স্থানীয় ভাবে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ করে থাকেন।” বাসিন্দাদের মতে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হাইড্রেন নির্মাণ করা জরুরি। নতুবা যে ভাবে শহরে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে বৃষ্টি না হলেও নালার জলে শহর ভাসতে থাকবে। তবে মানবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তৃণমূলের কবিতা মাহাতো জানিয়ে দিয়েছেন, হাইড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত তাঁদের নেই। বিষয়টি তিনি পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী সমিতির বৈঠকে তুলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

কাজেই শেষ অবধি ঠিক কবে মানবাজারে সুষ্ঠু নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

manbazar drainage system garbage
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy