Advertisement
E-Paper

খেলতে গিয়ে বোমায় জখম

কর্তারা মাঝে মধ্যেই দাবি করে থাকেন এলাকাটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে পুলিশ। ধরা পড়েছে দাগী অপরাধীরা, অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে বহু অস্ত্র-বোমাও। পুলিশের ওই দাবিকেই ভুল প্রমাণ করে বারবার অশান্ত হয়ে ওঠা রামপুরহাটের বগটুইয়ে গ্রামে বোমা ফেটে জখম হল এক শিশু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:০৩
জখম শিশু। —নিজস্ব চিত্র

জখম শিশু। —নিজস্ব চিত্র

কর্তারা মাঝে মধ্যেই দাবি করে থাকেন এলাকাটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে পুলিশ। ধরা পড়েছে দাগী অপরাধীরা, অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে বহু অস্ত্র-বোমাও। পুলিশের ওই দাবিকেই ভুল প্রমাণ করে বারবার অশান্ত হয়ে ওঠা রামপুরহাটের বগটুইয়ে গ্রামে বোমা ফেটে জখম হল এক শিশু। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় হাতে, পায়ে, পেটে ও মুখে গুরুতর চোট পেয়ে রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বাপন শেখ নামে পাঁচ বছরের ওই শিশু। পুড়ে গিয়েছে তার মাথার চুল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বগটুই এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। এলাকায় মারধর, বোমাবাজি থেকে একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী, বোমা বাঁধতে গিয়ে সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল এই গ্রামেই। নতুন এসডিপিও এবং আইসি আসার পরে ওই এলাকাকে অপরাধমুক্ত করার জন্য বিশেষ ভূমিকা নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ মহলের দাবি। সেই সূত্রেই সাম্প্রতিক ইতিহাসে বগটুই এলাকা থেকে বিভিন্ন মামলায় জড়িতদের ধরপাকড় করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু অস্ত্র উদ্ধারও হয়। সেই দিক থেকে ওই এলাকা বর্তমানে তুলনায় অনেকটাই শান্ত আছে বলে পুলিশের দাবি। একই অভিমত স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশেরও। তবে, এই ঘটনায় সেই ছবিটা কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল বলে মেনে নিচ্ছেন জেলা পুলিশের কর্তারাই।

ঠিক কী ঘটেছে এ দিন?

পরিবার সূত্রের খবর, এ দিন সকালে পড়শি শিশুদের সঙ্গে খেলতেল বেরিয়েছিল বাপন। বাড়ির অদূরেই একটি মাঠে খেলছিল তারা। ওই সময় মাঠের মধ্যেই পড়ে থাকা বোমার দিকে নজর যায় ওই শিশুদের। জখম শিশুর মাসি সোনালি খাতুনের কথায়, ‘‘ও বল ভেবে ওটা নিয়ে খেলতে যায়। তখনই বোমাটি ফেটে যায়।’’ আওয়াজে ছুটে আশপাশ থেকে লোক জন ছুটে আসেন। তাঁরা দেখেন, বাপনের গা বেয়ে রক্ত ঝরছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে বোমার আঘাত লেগেছে। খবর যায় বাড়িতে। তাঁরা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশই জখম বাপনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

এ দিকে, ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় বোমা উদ্ধারে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বোমা ঠিক ভাবে উদ্ধার করা হলে এ দিনের ঘটনাটি ঘটত না বলেই বাসিন্দাদের অনুমান। নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের কর্তারা অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ছুটিতে থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি এসডিপিও জোবি থমাস কে-র সঙ্গে। ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে, কে বা কারা বোমাটি মাঠে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy