Advertisement
E-Paper

ঘরছাড়া ছেলে ঠাঁই পেল হোমে

ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে সৎ মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল ছেলেটি। বছর দেড়েক আগে বাবার মৃত্যুর পরে অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে। শেষমেশ গত শুক্রবার মারধর করে সৎ মা বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অগস্ট ২০১৫ ০০:২৬
নতুন ঠিকানায় সরবন। —নিজস্ব চিত্র।

নতুন ঠিকানায় সরবন। —নিজস্ব চিত্র।

ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে সৎ মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল ছেলেটি। বছর দেড়েক আগে বাবার মৃত্যুর পরে অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে। শেষমেশ গত শুক্রবার মারধর করে সৎ মা বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ।

পুরুলিয়ার জয়পুর থানার কালিকাপুর জঙ্গল থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলা চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সরকার জানান, জঙ্গলে ছেলেটি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল। খিদে-তৃষ্ণায় কাতর ছিল সে। এলাকাবাসী ছেলেটিকে উদ্ধার করে নিজেদের গ্রামে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সরবন মান্ডি নামে বছর তেরোর ওই কিশোরকে পুরুলিয়ায় নিয়ে আসেন চাইল্ড লাইনের কর্মীরা।

বুধবার পুরুলিয়ায় জেলা চাইল্ড লাইনের দফতরে বসে হিন্দি মিশ্রিত সাঁওতালি ভাষায় ওই কিশোর জানায়, তার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার কাশমার থানার দুর্গাপুর গ্রামে। মাকে সে ভাবে মনে নেই। গ্রামের কাছেই বড়াইকেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। তার পর হাইস্কুলে ভর্তিও হয়েছিল।

Advertisement

মায়ের মৃত্যুর পরে বাবা ফের বিয়ে করেন। কিন্তু সৎ মায়ের সংসারে তাকে থাকতে হত অনাদরে। বছর দেড়েক আগে হঠাৎই বাবা রামেশ্বর মুর্মুর মৃত্যু হয়। তার পরেই দুর্ভোগ বাড়ে সরবনের। তার আপন বোন পিসির কাছে থাকলেও তাকে থাকতে হত সৎ মায়ের সংসারেই। সরবনের অভিযোগ, ‘‘বাবার মৃত্যুর পরে মা আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে দেয়। অথচ আমার বাকি দুই ভাই-বোন (সৎ মায়ের সন্তান) স্কুলে পড়ছে। স্কুল ছেড়ে আমাকে চাষের কাজ করতে হত। জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনির পরে খাবারও মিলত না পেটভরে। গত শুক্রবার আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় মা।’’

দীপঙ্করবাবু বলেন, ‘‘শুক্রবার অভিমানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরতে ঘুরতে কোনও ভাবে পরের দিন জয়পুরের জঙ্গলে পৌঁছয় ছেলেটি। জঙ্গলটি পুরুলিয়া ও বোকারো জেলা লাগোয়া। খবর পেয়ে আমরা মঙ্গলবার গিয়ে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে এনেছি।’’ এ দিন তাকে জেলা শিশুকল্যাণ কমিটির কাছে হাজির করা হয়েছে। আপাতত ছেলেটিকে আদ্রার মণিপুর হোমে রাখা হচ্ছে। ফের ওকে স্কুলে ভর্তি করা হবে। ছেলেটি যা দাবি করছে, তার কত দূর সত্যতা রয়েছে তা-ও খতিয়ে দেখা হবে বলে দীপঙ্করবাবু জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ধানবাদ চাইল্ড লাইনকে খবর পাঠিয়েছি। ছেলেটির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy