Advertisement
E-Paper

চার্জ গঠন হল, সাক্ষ্যগ্রহণ মার্চে

হাজির ছিলেন সাক্ষী। তার পরেও সোমবার পিছিয়ে গিয়েছিল দুবরাজপুর থানার সাব-ইনস্পেক্টর অমিত চক্রবর্তী হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া। কারণ, মামলার শুনানিতে হঠাৎ-ই ধরা পড়ল, সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়ে গেলেও ধৃত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনও চার্জই গঠিত হয়নি!

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১৯
সিউড়ি আদালতে ধৃত শেখ দুলাল। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

সিউড়ি আদালতে ধৃত শেখ দুলাল। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

হাজির ছিলেন সাক্ষী। তার পরেও সোমবার পিছিয়ে গিয়েছিল দুবরাজপুর থানার সাব-ইনস্পেক্টর অমিত চক্রবর্তী হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া। কারণ, মামলার শুনানিতে হঠাৎ-ই ধরা পড়ল, সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়ে গেলেও ধৃত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনও চার্জই গঠিত হয়নি!

ওই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল পুলিশের ভূমিকায়। মঙ্গলবারই অবশ্য শেখ দুলাল নামে সেই ধৃতের বিরুদ্ধে গঠিত হল চার্জ। ফলে, অমিত-হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এ বার শুরু হতে চলেছে। এ দিন সরকারি আইনজীবী তপন গোস্বামী জানান, চার্জ গঠন হওয়ার পরে নতুন করে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আগামী ৮-১০ মার্চ ধার্য করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। মোট পাঁচ জন পুলিশকর্মী সাক্ষ্য দেবেন।

এ দিন আদালতে দু’টি বিষয়ে শুনানি ছিল। প্রথমত, শেখ দুলালের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা। দ্বিতীয়ত, এই মুহূর্তে জেল হেফজতে থাকা অমিত-খুনের যে-সব অভিযুক্ত ও ধৃত নিজেদের আইনজীবী মারফত আদালতের কাছে জামিনের আবেদন জানিয়ে রখেছেন, সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত। শেখ দুলাল-সহ জেল হেফাজতে থাকা ১৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়ে গেলেও তাঁদের জামিন মঞ্জুর নাকচ করেছে আদালত। অভিযুক্তদের জামিনের পক্ষে তাঁদের আইনজীবীদের সওয়াল এবং সরকারি কৌঁসুলির বিরোধিতা শোনার পর কারও জামিন মঞ্জুর করেননি বিচারক। শুধুমাত্র এই ১৬ জনের মধ্যে দু’জনের জামিনের বিষয়ে এ দিন আদালত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই দুই অভিযুক্তের মধ্যে এক জনের শিশুকন্যা এবং অন্য জনের স্ত্রী অসুস্থ। তাঁদের পরিবারে অন্য কেউ না থাকায় ওই শিশুকন্যা এবং বধূর শারীরিক অবস্থা এখন কোন পর্যায়ে, সেটা ১০ দিনের মধ্যে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দুবরাজপুর থানার ওসি-কে এ দিন দিয়েছেন বিচারক।

তবে শেখ দুলালের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এবং অভিযুক্তদের জামিনের শুনানির বাইরে একটি বিষয় নিয়ে এ দিন এজলাসে সরকারি কৌঁসুলি এবং অভিযুক্তদের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বিতণ্ডা হয়। সেই বিষয়টি হল: কী ভাবে এই মামলার মোট ১৮ জন সাক্ষীর তালিকায় নিহত অমিত চক্রবর্তীরই নাম থাকল! সোমবারই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল। কিন্তু, সেটা বিতর্কে পৌঁছয়নি। এ দিন অভিযুক্তদের আইনজীবীদের একাংশের দাবি করেন, তাঁদের কাছে আদালতের তরফে চার্জশিটের যে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হয়েছে সেখানে ১২ নম্বরে অমিতবাবুর নাম রয়েছে। পিপি তপন গোস্বামী দাবি করেন হতে পারে টাইপের গণ্ডগোল। কিন্তু তাঁদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সেখানে কোথাও সাক্ষীদের তালিকায় অমিতের নাম নেই।

পিপি-র বক্তব্য মানতে চাননি অভিযুক্তদের পক্ষের এক আইনজীবী আদ্যানাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি পিপি-র উদ্দেশে বলেন, নাম যখন রয়েছে, তখন হাজির করানো হোক অমিতবাবুকে। অভিযুক্তদের আর এক আইনজীবী তপন সাহানা বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সার্টিফায়েড কপিতে সাক্ষীদের তালিকা তাঁর নজরে আনেন। তপনবাবু বলেন, ‘‘হতে পারে চার্জশিটের কপিতে ভুল রয়েছে। কিন্তু কেস ডায়েরি, যেটা মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, তার শেষ পাতায় সাক্ষ্যদের নাম থাকবে। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে কেস ডায়েরি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’ সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগ মানতে চাননি। বিচারকও এ ব্যাপারে কোও মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন: অমিত হত্যা মামলা বদলান রণজিৎকে, আর্জি স্ত্রীর

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy