মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ২০০৮-এর অগস্ট মাস থেকে বন্ধ হয়ে থাকা পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ এখনও খোলা হল না। ওই মেডিক্যাল কলেজের কর্মী ও শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে আযুষ বিভাগের তরফেও বিশেষ হেলদোল দেখা যায়নি। ফলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা আদৌ খুলবে কি না সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত বিশ বাঁও জলে।
বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ফের রাজ্য সরকার চালু করবে, জেলায় প্রশাসনিক সভা থেকে এই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলেজের সম্পাদক মণীন্দ্রনাথ জানা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে পুরুলিয়া ২ ব্লকের হুটমুড়া মাঠের প্রশাসনিক সভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন পুরুলিয়া হেমিওপ্যাথি কলেজ কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তবে রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করে তা চালু করবে। জঙ্গলমহলের এই প্রান্তিক জেলার একটি বন্ধ হয়ে থাকা ডাক্তারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফের চালু করার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। তারপরে স্বাস্থ্য দফতরেরর কাছে বারবার চিঠি লেখা হয়েছে। কাজ কিছুই এগোয়নি। তাঁর দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ বিভাগও (যাদের অনুমতিতে এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে) জানিয়ে দেয় যে রাজ্য সরকার এই কলেজটিকে অধিগ্রহণ করলে আয়ুষ ফের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য সবুজ সঙ্কেত দেবে।’’ উল্লেখ্য, আয়ুষের নির্দেশেই এই কলেজটি ২০০৮ সালে পরিকাঠামোর অভাবের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লধুড়কার প্রশাসনিক সভা থেকে ঘোষণা করেন, এই কলেজটি পিপিপি মডেলে চালু করা হবে। মণীন্দ্রনাথবাবু জানিয়েছেন, এর আগে তাঁরা পুরুলিয়ার তৃণমূল বিধায়ক কে পি সিংহ দেওয়ের কাছে কলেজের বর্তমান অবস্থা অবগত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই কলেজ খোলার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি বৈঠকও এই কলেজে হয়েছে। সেই বৈঠকে বিধায়ক নিজেও উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতিত্বও করেন। তিনি নিজেও কলেজ খোলার বিষয়ে আন্তরিক। মণীন্দ্রনাথবাবু দাবি, ‘‘ওই বৈঠকেই জানতে পারি যে রাজ্য সরকারের আয়ুষ বিভাগের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কলেজ পরিদর্শনে আসবেন। যদিও এখনও মন্ত্রী এই কলেজ পরিদর্শনে আসতে পারেননি।’’
তাই চরম হতাশ কলেজের ২৫ জন শিক্ষক ও ১৮ জন শিক্ষাকর্মীর। শিক্ষকেরা ১১৫ মাস ও শিক্ষাকর্মীরা ১১০ মাস বেতন পাননি। তাঁদের একাংশ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তাঁদের মনে আশঙ্কার মেঘ কাটতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখনও কিছু হল না। ২০১২র ডিসেম্বর থেকে আড়াই বছরের বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। অবস্থা সেই তিমিরেই। কলেজের সম্পাদক মণীন্দ্রনাথবাবুর প্রশ্ন, পিপিপি মডেলে কলেজ চালু হলে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়— বকেয়া বেতন কে দেবে। তারপরে পিপিপি মডেলে চালু হলে অনেক বেশি টাকা দিয়ে পড়ুয়াদের ভর্তি হতে হবে। ক’জন সে ক্ষেত্রে আগ্রহী হবেন? তাঁদের দাবি, কলেজটি রাজ্য সরকারই অধিগ্রহণ করুক।
পুরুলিয়ার বিধায়ক কে পি সিংহ দেও বলেন, ‘‘এই বিভাগের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পরিদর্শনের জন্য পুরুলিয়ায় আসতে পারেননি। আমি তাঁকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। তাছাড়া বিধানসভাতেও বলেছি। ফের আশিষবাবুকে পরিদর্শনের কথা জানাব।’’ আশিষবাবু বলেন, ‘‘কিছু সমস্যার জন্যে পুরুলিয়ায় যাওয়া হয়নি। চেষ্টা করছি যাওয়ার।’’