মোটা টাকার লোভে পাচারকারীদের হাতে গাড়ি তুলে দিয়ে ছিনতাইয়ের নাটক করেছিলেন চালক। তবে শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জেরার মুখে ছিনতাইয়ের নাটক বেমালুম ফাঁস হয়ে গেল। ধরা পড়ে গেলেন চালক-সহ পাচারকারীদের এক পাণ্ডা। উদ্ধার হল ছিনতাই হওয়া গাড়ি। বাঁকুড়ার পাত্রসায়র থানা এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শান্তনু ধাড়া ও রাজু পোড়ে। হুগলির কামারপুকুরের বাসিন্দা বছর পঁচিশের শান্তনু ওই গাড়ির চালক। বছর চব্বিশের রাজুর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার রামজীবনপুরে। শান্তনুকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজুকে রামজীবনপুর এলাকা থেকে ধরা হয়। পাত্রসায়র থানার ডুমনি এলাকার থেকে ছিনতাই হওয়া ওই ছোট গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “গত ১৪ জুন হুগলির কামারপুকুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে ইন্দাস যাওয়ার পথে ওই ছোট গাড়িটিকে রাস্তায় দুষ্কৃতীরা ছিনতাই করে নিয়ে পালায় বলে চালক দাবি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথায় যথেষ্ট অসঙ্গতি ছিল। জেরায় ভেঙে পড়ে চালক পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেন যে, মোটা টাকার লোভে গাড়িটি পাচারকারীদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেফতার করার পরেই পাচারকারীদের মধ্যে একজনকে ধরা হয়েছে।’’ ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাড়িটির মালিক হলেন হুগলির কামারপুকুরের অমরেন্দ্র সন্ন্যাসী। অমরেন্দ্রবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১৪ জুন চালক শান্তনু তাঁকে জানান, ভাড়া নিয়ে তিনি ইন্দাসে যাচ্ছেন। ফিরতে রাত হবে। কিন্তু রাতে আর গাড়ি নিয়ে কামারপুকুর ফেরেননি চালক। পরে চালক তাঁকে জানিয়েছিলেন, পাত্রসায়র– বিষ্ণুপুর রাস্তায় জামকুড়ি খালের কাছে গাড়ির আরোহীরা তাঁকে মারধর করে গাড়ি ছিনতাই করে পালিয়েছে। খবর পেয়ে পরদিন পাত্রসায়র থানায় গিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেন গাড়ির মালিক। পাত্রসায়র থানার এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি, “ছিনতাইয়ের সময় এবং মারধরের বিবরণ দেওয়ার সময় চালকের কথাবার্তায় যথেষ্ট অসঙ্গতি ছিল। চালককে তাই সন্দেহের তালিকায় রেখে জেরা শুরু করা হয়। জেরায় সে ছিনতাইয়ের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে পুলিশকে জানায়।
তবে গাড়ি নিয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি পাচারকারীরা। ডুমনির জঙ্গল এলাকায় গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। একটি পরিত্যক্ত গাড়ি ডুমনি এলাকার পড়ে রয়েছে বলে শুক্রবার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার। ধৃত চালক শান্তনু বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পাচার চক্রের পাণ্ডা রাজুকে শনিবার বিষ্ণুপুর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ১৪ দিন জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দেন।