Advertisement
E-Paper

দেওয়ালে স্বচ্ছভারত, নেই শৌচালয়

রাতের বেলায় ছোট ক্লাসের কেউ বাথরুমে যেতে উঠলে, উঠতে হয় উঁচু ক্লাসের দাদাদের! তবে উঁচু ক্লাসের দাদারাও একা একা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতে পারে না। যেতে হয় দল বেঁধে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, এটাই দস্তুর সিউড়ি ১ ব্লকের নগরী গ্রামের সুধাংশুবদনী শিক্ষানিকেতন লাগোয়া কৃষ্ণদাস ছাত্রাবাসের পড়ুয়াদের! না, ভূতের ভয় নয়!

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:০৬
ছাত্রাবাসে প্রকল্পের দেওয়াল লিখন। — নিজস্ব চিত্র।

ছাত্রাবাসে প্রকল্পের দেওয়াল লিখন। — নিজস্ব চিত্র।

রাতের বেলায় ছোট ক্লাসের কেউ বাথরুমে যেতে উঠলে, উঠতে হয় উঁচু ক্লাসের দাদাদের! তবে উঁচু ক্লাসের দাদারাও একা একা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেতে পারে না। যেতে হয় দল বেঁধে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, এটাই দস্তুর সিউড়ি ১ ব্লকের নগরী গ্রামের সুধাংশুবদনী শিক্ষানিকেতন লাগোয়া কৃষ্ণদাস ছাত্রাবাসের পড়ুয়াদের!

না, ভূতের ভয় নয়! ৬০ বছর ধরে কোনও শৌচাগার ও স্নানঘর নেই তপসিলি জাতি উপজাতিভূক্ত ছাত্রদের জন্য নির্মিত ওই ছাত্রাবাসে। ছাত্রাবাস থেকে বেশ কিছুটা দূরের কোনও পুকুরে বা খোলা মাঠে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যেত হয় পড়ুয়াদের। পড়ুয়াদের বক্তব্য, রাতে যেতে হলে দল বেঁধে না গেলে উপায় কী। যে ছাত্রাবাসে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪জন ছাত্র পড়াশুনা করে, সেখানে এমন কেন হবে?

প্রশ্নটা আরও সঙ্গত এই জন্যই যখন স্বচ্ছ ভারত, নির্মল বাংলা বা বীরভূম নিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বোধন হচ্ছে একটার পর একটা ছাত্রাবাস। সেখানে কৃষ্ণদাস ছাত্রাবাসে বসবাসকারি পুড়ুয়ারা কেন কষ্টে থাকবে। যদিও তার কোনও সদুত্তর নেই। কবে দুর্দশা ঘুচবে তারও কোনও নির্দষ্ট সময় সীমা দিতে পারেনি প্রশাসন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে নগরী গ্রামে ৫৩ সালে স্কুল স্থাপনের তিন বছর পর ৫৬ সালেই ছাত্রাবাসটি তৈরি হয় তপসিলি জাতি উপজাতিভূক্ত পড়ুয়াদের থেকে পড়াশুনা করার জন্য। তৈরির সময় অপ্রতুল হলেও শৌচাগার ছিল। কিন্তু বহুবছর আগেই তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, যিনি পদাধিকার বলে ছাত্রাবাসের সুপার সেই শীর্ষেন্দু রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘২০১১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়া ইস্তক এমন সমস্যা দেখছি। বিডিও অফিস, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যান দফতর সব জায়াগায় যোগাযোগ করেও এখনও পর্যন্ত সমস্যা মেটাতে পারিনি। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।’’

সিউড়ি১ ব্লকের বিডিও ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তারা ছাত্রাবাস দেখে গিয়েছেন। ছটি শৌচাগার ও ছটি বাথরুমের খসড়া পরিকল্পনা স্কুলের তরফে এ বিডিওর কাছে পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরকেও। আশাকরি অদূর ভবিষ্যতে সমস্যা মিটবে। কিন্তু সেটা কবে তা জানাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। শৌচাগার ও বাথরুম না থাকায় ছাত্রদের যে চরমতম অসুবিধা হয়ে থাকে, সে কথা মেনে নিয়েছেন সিউড়ি ১ ব্লকের ওই স্কুলের শিক্ষকেরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বাসিন্দারও বলছেন, সরকার বলছে খোলামাঠে শৌচকর্ম করলে রোগের প্রকোপ বাড়ে। এ ভাবে দিনের পর দিন বাইরে শৌচকর্ম করতে গেলে প্রথমত ছেলেগুলি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। ছাত্রাবাসের দেওয়ালেই নজরে এল স্বচ্ছভারত মিশনের সচেতনতা সূচক পোস্টার। এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, সেটা ওই পড়ুয়াদের কাছে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। ছাত্রাবাসে থাকা দশম শ্রেণির পড়ুয়া উৎপল রোওয়ানী, রাজকুমার সাহা, শিবধন সরেন বা নবম শ্রেণির কার্তিক বাগদি অভিজিত বাগদিরা জানিয়েছে শৌচাগারের অভাবে সত্যিই খুব কষ্ট হয় আমাদের ও ভাইদের। স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে ছাত্রাবাসে শৌচাগার না থাকলেও স্কুলে দুটি শৌচাগার রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলি ব্যবহার করার সুযোগ পায় পড়ুয়ারা। কিন্তু এত সংখ্যক পড়ুয়াদের নিয়মিত ব্যবহারের জন্য যেগুলি মোটেই যথেষ্ট নয়।

ছাত্রাবাসে কোনও শৌচাগার না থাকায় যে ছাত্ররা কষ্টে রয়েছে তা মেনে নিয়েছেন জেলা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ আধিকারিক কাজলকান্তি সাহা। তিনি বলছেন, কীভাবে সমস্যা মেটানো যায় সেই চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওকে বিষয়টি বলা হয়েছে। সিউড়ি ১ ব্লকের বিডিও কৌশিক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ছাত্রাবাসে শৌচাগার বানানোর জন্য জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশাকরি সেগুলি অনুমোদন পাবে। তা ছাড়াও ব্লক অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের অর্থ সাহায্যে যাতে কিছু শৌচাগার দ্রুত বানানো যায় কিনা সেটা দেখা হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy