Advertisement
E-Paper

দাম চড়া, ছুটির দিনেও জমল না বাজার

বর্ষার পরে সেই অর্থে পুরুলিয়া জেলায় বৃষ্টি না হওয়াতে সব্জির বাজার এমনিতেই চড়া। তার পরে পুজোর মরসুম। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজার দর বেশ চড়েছে পুরুলিয়াতে। বাজারের চড়া মূল্যের কারণেই এ বার লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন রবিবার বাজারের ছবি একটু মন্দাই ছিল জেলায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৩৩
অগ্নিমূল্য। তাই ভাল করে যাচাই করে ফল কিনছেন ক্রেতা। রবিবার রঘুনাথপুরে তোলা নিজস্ব চিত্র।

অগ্নিমূল্য। তাই ভাল করে যাচাই করে ফল কিনছেন ক্রেতা। রবিবার রঘুনাথপুরে তোলা নিজস্ব চিত্র।

বর্ষার পরে সেই অর্থে পুরুলিয়া জেলায় বৃষ্টি না হওয়াতে সব্জির বাজার এমনিতেই চড়া। তার পরে পুজোর মরসুম। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজার দর বেশ চড়েছে পুরুলিয়াতে। বাজারের চড়া মূল্যের কারণেই এ বার লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন রবিবার বাজারের ছবি একটু মন্দাই ছিল জেলায়।

পুরুলিয়া সদর, রঘুনাথপুর মহকুমা সদর, বা রেল শহর আদ্রায় বাজারে ফল, সব্জির দাম প্রায় একই ছিল। বেদানা বিক্রি হয়েছে ১২০-১৬০ টাকা প্রতি কেজি, আপেলের দাম ঘোরাফেরা করেছে মোটামুটি ৬০-৯০ টাকা/ কেজিতে। মুসাম্বি লেবুর দাম ৬০ টাকা, নারকেল ও ডাব প্রায় একই ২০ থেকে ৩০ টাকা। পানিফল কেজিতে ৪০-৫০ টাকা। ন্যাসপাতির দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা/ কেজি। খেজুরের দাম ছিল ৮০ টাকা কেজি। লক্ষ্মীর ঘটে আবশ্যক ধানের শীষের ছড়ার দাম পুরুলিয়ার বাজারে ১০-১৫ টাকা। ফল বিক্রেতা সেখ রাজেশ, সুনীল সাউরা বলেন, ‘‘লক্ষ্মী পুজোর আগে ফলের দাম কিছুটা চড়া। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে বিক্রিবাটার পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়।”

বস্তুত ফি বছরই লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজার অগ্নিমূল্য হয়। এ বারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বর্ষার পর থেকেই বৃষ্টি না হওয়াতে সব্জির দামে খুব একটা হেরফের লক্ষ করা যায়নি। পুজোর ভোগের খিচুড়িতে ব্যবহৃত সব্জির মধ্যে ফুলকপি একটু বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা (একটি)। বাঁধাকপির দাম সামান্য বেড়ে রবিবার ছিল ৩০ টাকা/ কেজি। টম্যাটো বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা, কুমড়োর দাম ছিল ২০ টাকা। তবে ভাল দাম বেড়েছে গাজর ও ধনেপাতার। আদ্রার সব্জি ব্যবসায়ী অনিল প্রসাদ, কাশীপুরের ব্যবসায়ী জয়ন্ত করদের মতে, ‘‘এ বছর পুজো দেরিতে হচ্ছে তাই বাজারে শীতের সব্জি চলে আসাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা।”

Advertisement

এ দিকে ফল, সব্জির বাজারের পাশাপাশি পুজোর উপকরণ বিক্রির বাজার রবিবারে বেশ ফাঁকাই ছিল জেলায়। পুরুলিয়া শহরের প্রতিমা বিক্রেতা উত্তম চৌরাশিয়া বলেন, ‘‘অন্যান্য বার পুজোর আগের দিনই বেশিরভাগ প্রতিমা বিক্রি হয়ে যায়। এ বার কিন্তু রবিবার পর্যন্ত বহু প্রতিমা অবিক্রিত রয়েছে।” উত্তমবাবুর আশা, সোমবার পুজোর দিনে প্রতিমা বিক্রি বাড়বে। একই ভাবে পুজোর ঘটে ব্যবহৃত গামছা বিক্রি করেন পুরলিয়া শহরের নৌসাদ আনসারি। তারও অভিজ্ঞতা কার্যত একই।

অন্যদিকে বাজার চড়া হলেও পুজোর আয়োজনে খামতি রাখা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন পুরুলিয়া, আদ্রা, ঝালদার গৃহবধূরা। আদ্রার বাসিন্দা প্রৌঢ়া শান্তি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রতি বছরই পুজোর আগে বাজার করতে গিয়ে চড়া দামের জন্য সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু তা বলে মায়ের পুজোর আয়োজনে খামতি রাখা যায় না।”

একই কথা বলছেন পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা শর্মিলা কর, কল্যাণী মাহাতো থেকে ঝালদার রুবি বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাদের কথায়, ‘‘পুজোর জন্য সব্জির দামের খুব বেশি হেরফের হয়নি ঠিকই, কিন্তু ফলের বাজার বেশ চড়া। তা স্বত্বেও অন্যান্যবারের মতোই পুজোর আয়োজন করেছি।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy