নির্যাতনের পর কেটে গিয়েছে এক মাস কুড়ি দিন। তবুও নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সেই অর্থে দাঁড়াছে না, জেলা পুলিশ প্রশাসন।
জেলা শাসক-সহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিল রাজ্য মহিলা কমিশন। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের প্রয়োজন মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা কেন হয়নি, তা নিয়েও কার্যত ভৎর্সনার সুরে জেলার আধিকারিকদের প্রশ্ন করেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায়। গ্রামবাসীদের সামনে আক্রান্তদের মঞ্চে ডেকে, নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি ঘটনায় যুক্তদের কঠোর শাস্তি বিধানের বার্তা দেন সুনন্দাদেবী। সোমবার বিকেলে বোলপুরের বিনোদপুরে, ডাইনি অপবাদে ওই পরিবারের উপর মারধর এবং সামাজিক ভাবে বয়কটের ঘটনায়, সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি।
‘ডাইনি’ সন্দেহে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী-সহ একই পরিবারের চার মহিলাকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে বোলপুর থানার রূপপুর পঞ্চায়েতের বিনোদপুরে। অভিযোগ, ওই বাসিন্দার বাড়িতে এবং তার প্রতিবেশী তথা আত্মীয়ের বাড়িতে অগস্ট মাসের দু’তারিখ সকালে চড়াও হন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ও তাঁর মা, মাসি এবং নানিকে বাড়ি থেকে টেনে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। সংকটজনক অবস্থায় আক্রান্ত বৃদ্ধা-সহ গুরুতর জখম চার জনকে ভর্তি করা হয় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে। কয়েক দিন চিকিৎসার পর, সংকটজনক অবস্থায় ভর্তি থাকা বৃদ্ধা মারা যান ওই মাসের ৮ তারিখ।
ঘটনা হল, এরপরও গ্রামবাসীদের একাংশ নানা ভাবে হেনস্থা করা-সহ সামাজিক ভাবে ওই পরিবারকে বয়কট করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা চাওর হতেই, ওই এলাকায় গিয়েছিল রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল। জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করে তারা। কমিশনের সুপারিশের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আলোচনা হয়েছিল জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে। ওই ঘটনায় এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত হয় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ দিন সুনন্দাদেবী বোলপুরের বিএমওএইচ সব্যসাচী রায় এবং ট্রাইবাল ডেভলপমেন্ট অফিসার দীপক কুমার দাসকে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চান। কেন তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হয়নি জানতে চান সুনন্দাদেবী। সকল অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানান পুলিশ প্রশাসনের কাছে।