শেষমেশ জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মৃত বধূ পায়েল করের শেষকৃত্যে হাজির থাকল তাঁর চার বছরের ছেলে। সোমবার বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে বিকেলে পুরুলিয়া শহরের উপকন্ঠে শ্মশানকালী ঘাটে ওই বধূর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন।
হুড়া থানার নিমতলা এলাকায়, নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকে শনিবার বছর পঁচিশের বধূ পায়েলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পারিবারিক অশান্তির জেরে ওই তরুণী গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছিল মৃতের পরিবারের লোকজন। শনিবার রাতে পায়েলের দাদা অভিষেক চৌধুরী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাঁর বোন। তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরাই। অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার স্বামী সঞ্জয় রক্ষিত, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরের বিরুদ্ধে বধূ নিযার্তন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করে পুলিশ।
পায়েলের বাপের বাড়ির লোকজন চেয়েছিলেন, তাঁর বছর চারেকের ছেলে মায়ের শেষকৃত্যে হাজির থাকুক। পুলিশের যুক্তি ছিল, বাচ্চাটিকে এখনই মামাবাড়ির লোকজনের হাতে দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে আদালত যা নির্দেশ দেবে, তারা তাই মেনে চলবে। শেষে অভিষেকরা পুরুলিয়া জেলা চাইল্ড লাইনের দ্বারস্থ হন। চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সরকার জানান, তাঁরা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশকে জানান যে, মায়ের শেষকৃত্যে তাঁর সন্তানকে হাজির থাকতে দিতে হবে। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব রোহন সিংহ নিজে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরে পুলিশ আর আপত্তি করেনি।
রবিবার পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে পায়েলের দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায়। তাই সোমবার সকালে দেহ পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পরে এ দিন বিকেলে পায়েলের দেহ পুরুলিয়া শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে আসা হলে পুলিশই তাঁর ছেলেকে হুড়া থেকে গাড়িতে করে শেষকৃত্যের যোগ দেওয়ানোর জন্য নিয়ে আসে। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারের একটি গাছ থেকে একটি হলুদ রঙের ফুল তুলে মায়ের দেহের দিকে এগিয়ে যায় শিশুটি। মাকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ফের পুলিশের সঙ্গেই ফিরে যায় শিশুটি। দীপঙ্করবাবু বলেন, ‘‘ওই শিশু কোথায় থাকবে, তা ঠিক করার জন্য আমরা তার মামাকে কাগজপত্র-সহ আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলেছি।’’