Advertisement
E-Paper

মিষ্টির দামে চোখ কপালে

পুজো মরসুম মানেই ঢালাও বিক্রি মিষ্টির। দামের পারদও এক ঝটকায় চড়ে যায় অনেকটাই। লক্ষ্মীপুজোর বাজারে তাই ফল সব্জির পাশাপাশি মিষ্টির দাম দেখেও চোখ কপালে উঠছে অনেকের। আবার ক্রেতারা একটু কম দামি মিষ্টির দিকে ঝুঁকতে গেলেও ছোট আকার দেখে ফিরে আসছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ০১:২২
বাঁকুড়ার চকবাজারে তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদের ‘স্পেশাল লাড্ডু’। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

বাঁকুড়ার চকবাজারে তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদের ‘স্পেশাল লাড্ডু’। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

পুজো মরসুম মানেই ঢালাও বিক্রি মিষ্টির। দামের পারদও এক ঝটকায় চড়ে যায় অনেকটাই। লক্ষ্মীপুজোর বাজারে তাই ফল সব্জির পাশাপাশি মিষ্টির দাম দেখেও চোখ কপালে উঠছে অনেকের। আবার ক্রেতারা একটু কম দামি মিষ্টির দিকে ঝুঁকতে গেলেও ছোট আকার দেখে ফিরে আসছেন। অনেকেরই ক্ষোভ, ‘পাঁচ টাকার রসগোল্লা আর বোঁদের তফাই আর নেই!’’

বাঁকুড়া শহরের মিষ্টির দোকান গুলিতে তিন টাকা দামের রসগোল্লা বর্তমানে বিল্পুপ্ত প্রায়। শুধু রসগোল্লাই কেন, ওই দামের মিষ্টির আজকাল দেখাই মেলা ভার। শহরের প্রবীণ বাসিন্দা জ্ঞানশঙ্কর গোস্বামীর ক্ষোভ, “তিন টাকার মিষ্টিই এখন পাঁচ টাকা হয়েছে। দাম বেড়েছে কিন্তু মিষ্টির আকৃতি যা ছিল তাই আছে। ওই ছোট ছোট মিষ্টি কি আর লোকজনকে দেওয়া যায়!” অগত্যা বেশি দামের মিষ্টি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁর মত বহু ক্রেতাই। শহরের রানিগঞ্জ মোড়ের একটি পুরনো মিষ্টির দোকানে এক একটি সন্দেশ ছয় ও আট টাকা, কাঁচাগোল্লা চার ও পাঁচ টাকা, কালাকাঁদ পাঁচ ও আট টাকা, রসগোল্লা পাঁচ ও আট টাকা, মোতিচুরের লাড্ডু তিন ও পাঁচ টাকা। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ ছানার খাস মণ্ডা দুই ও চার টাকায় মিলছে। ছ’টাকার সন্দেশ, পাঁচ টাকার কালাকাঁদ ও রসগোল্লা হাতে ধরাই দায়! দোকান মালিক জয়ন্ত বরাটের অকপট স্বীকারোক্তি, “ফি বছর খরচ বাড়ছে। তাই মিষ্টির দাম বাড়ছে। তিন টাকা ও পাঁচ টাকায় ‘স্ট্যান্ডার্ড সাইজ’ মিষ্টি আজকাল মেলা ভার।”

শহরের ভৈরবস্থান এলাকার একটি প্রথম সারির মিষ্টির দোকানে মালপোয়া ছ’টাকা, মতিচুরের লাড্ডু আট ও দশ টাকা, ক্ষীরকদম, পোস্ত কদম ছ’টাকা, পান্তুয়া পাঁচ টাকা, কেশর রস ছ’টাকা, কাঁচাগোল্লা পাঁচ টাকা, ম্যাঙ্গো রোল সাত টাকা, চকোলেট রোল দশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দশ থেকে কুড়ি টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সন্দেশ রয়েছে এই দোকানে। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে শঙ্খ সন্দেশ নামের একটি বিশেষ মিষ্টি তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে এখানে। প্রতি পিসে যার দাম ত্রিশ টাকা। দোকান মালিক গিরিধারী বরাট বলেন, “আজকাল মানুষ দাম দেখে না। কোয়ালিটির কদর বেড়েছে। কম দামি মিষ্টির চাহিদাও নেই। আমরাও নতুন নতুন মিষ্টি বানাই বিভিন্ন পুজো পার্বনে।”

Advertisement

ব্যবসায়ীরা যতই বলুক, মিষ্টির দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু মধ্যবিত্তের মাথাতেই হাত পড়েছে। কাটজুড়িডাঙার বাসিন্দা পেশায় স্কুল শিক্ষক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এ বার বিজয়াতেই দু-তিন হাজার টাকার মিষ্টি কেনা হয়েছে। লক্ষ্মী পুজোতেও প্রচুর মিষ্টি কিনতে হবে। দামের সঙ্গে মিষ্টির আকৃতির কোনও সামঞ্জস্য নেই। কয়েক বছর আগেও মিষ্টির দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল, এ বার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।” বাঁকুড়ার অরবিন্দনগরের বাসিন্দা সঙ্গীত শিল্পী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, “এই হারে মিষ্টির দাম বাড়তে থাকলে মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে মিষ্টি।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy