তিনি ‘জাতীয় শিক্ষকে’র সম্মান পাবেন তাঁরই কলেজের এক প্রাক্তনীর কাজ থেকে। আজ, শনিবার নয়া দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে এমনই এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হবেন বীরভূমের মানুষ। এ বারের শিক্ষক দিবসে রাইসিনা হিলসে রামপুরহাট হাইস্কুলের শিক্ষক নিখিলকুমার সিংহের হাতে ওই সম্মাননা তুলে দেবেন দেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে দু’জনেই বীরভূমের সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তনী।
সোমবার বিকালেই বিকাশ ভবন থেকে শিক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর সুকান্ত বসু নিজে ফোন করে তাঁকে সুখবরটা দিয়েছিলেন। পরের দিনই চিঠি পৌঁছয় সিউড়িতে জেলা শিক্ষা দফতরে। আর বুধবারই তিনি রওনা দেন দিল্লির উদ্দেশে। যাওয়ার আগে রামপুরহাট হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে থাকা নিখিলবাবু বলেন, ‘‘এই সম্মান পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। এই সম্মান আমি আমার শিক্ষক তথা বিশ্বভারতীর সহ-উপাচার্য স্বপনকুমার দত্তকে উৎসর্গ করলাম।’’ পুরস্কারের মূল্য বাবদ প্রাপ্য ৫০ হাজার টাকা তিনি পড়ুয়াদের কল্যাণে দান করতে চান বলে জানিয়েছেন বর্তমানে রামপুরহাটের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিখিলবাবু।
১৯৮৩ সালে ওই স্কুলে জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন নিখিলবাবু। ঔষধি গাছের উপর গবেষণা করে বিশ্বভারতী থেকে পিএইচডি পান ১৯৯২ সালে। স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি আরশাদ হোসেন বলছেন,‘‘স্যার এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। সেই তিনিই এই স্কুলে শিক্ষকতার সুবাদে জাতীয় শিক্ষকের পুরস্কার পাচ্ছেন। এটা কম গর্বের বিষয় নয়।’’ সম্মান প্রাপ্তির খবর মিলতে সোমবারই মিষ্টিমুখ করেন সহকারী শিক্ষকেরা। তাঁদেরই এক জন, বহ্নিশিখা দাস বলেন, ‘‘স্কুল জীবনে নিখিল স্যারের কাছেই পড়াশোনা করেছি। সেই তাঁরই সঙ্গে একই বিষয়ের একই স্কুলের শিক্ষিকা হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। স্যারের এই সম্মান আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’’
অন্য দিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ নুরুজ্জামান, প্রাক্তন ছাত্র তথা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নিখিলবাবুর এই সম্মানপ্রাপ্তিতে তাঁরা গর্বিত। আর স্কুলের বর্তমান ছাত্র, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অনঘ ঘোষ বলছে, ‘‘নিখিত স্যার একজন ছাত্রদরদী, শিক্ষানুরাগী, নিষ্ঠাবান শিক্ষক। এক জন যোগ্য মানুষই জাতীয় শিক্ষকের সম্মান পাচ্ছেন। আমরা সবাই খুশি।’’