দীর্ঘদিন ধরে কলেজে শিক্ষক নেই। বারবার বলেও শিক্ষক পদ পূরণ হচ্ছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বান্দোয়ান পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রদের মধ্যে।
শূন্য পদে শিক্ষক চেয়ে বুধবার কলেজের মূল গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন পড়ুয়ারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের দাবি যথাস্থানে জানানোর আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ থামে। বান্দোয়ানের লিকি গ্রামে ২০০৯ সাল থেকে ওই পলিটেকনিক কলেজটি চলছে। মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল, এই দু’টি বিভাগে (ট্রেড) প্রায় সাড়ে তিনশো ছাত্রছাত্রী ওই কলেজে আছেন। কলেজের ছাত্র সংসদের সম্পাদক দেবব্রত মাহাতো জানান, শুরু থেকেই এই কলেজে শিক্ষক কম। প্রতিটি ট্রেডের জন্য কমপক্ষে ২-৩ জন শিক্ষক থাকা দরকার। ওই হিসাবে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের জন্য অন্তত ১২ জন স্থায়ী শিক্ষক থাকার কথা। তাঁর কথায়, ‘‘সম্প্রতি আমাদের কলেজ থেকে কয়েক জন শিক্ষক বদলি হয়েছেন। আমাদের জানানো হয়েছিল, খুব শীঘ্র পরিবর্ত শিক্ষক যোগ দেবেন। কিন্তু কেউ আসেননি। শিক্ষক চেয়ে আমরা বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েছি। সুরাহা হয়নি। বর্তমানে কলেজে মাত্র ৩ জন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। এ ছাড়া কয়েক জন পার্শ্ব শিক্ষক রয়েছেন। এর ফলে আমাদের পড়াশোনা মার খাচ্ছে। বারবার আবেদনেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।’’
পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ-সহহ ৬ জন শিক্ষক চলে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। পুরুলিয়া পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ বান্দোয়ান কলেজের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। ফলে বান্দোয়ানের কলেজে তেমন সময় দিতে পারতেন না।
পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় কলেজে এক বছর ধরে ওয়ার্কশপ হচ্ছে না। অথচ পলিটেকনিক কলেজে ওয়ার্কশপ অত্যন্ত জরুরি। মেকানিক্যাল ট্রেডে এক জন ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। তাঁকেও তুলে নেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টেন্ট, হেড ক্লার্ক নেই। অফিসে মাত্র দু’জন কর্মী। এ কারণে তাঁরা বৃত্তির আবেদন জানাতে পারছেন না বলেও ক্ষোভের সঙ্গে জানা পড়ুয়ারা। বান্দোয়ান পলিটেকনিক কলেজের কোনও শিক্ষক এই নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, সম্প্রতি বদলি হওয়া অধ্যক্ষ গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা চলে আসার পর বান্দোয়ানের কলেজে শিক্ষক সত্যিই কমে গিয়েছে।