Advertisement
E-Paper

শুভঙ্করের মৃত্যুতে খুনেরই অভিযোগ

রবিবারের দুপুরে কংসাবতী নদীতে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া ছাত্র শুভঙ্কর মাহাতোর মৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করল পুলিশ। মৃতের বাবা গোপেশ্বর মাহাতোর অভিযোগের ভিত্তিতে শুভঙ্করের সাত বন্ধুকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে চার জন নাবালক। রবিবার ওই সাত জনের সঙ্গে শুভদীপ কংসাবতী নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল বলে তাঁর পরিবারের দাবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৫ ০১:২৭

রবিবারের দুপুরে কংসাবতী নদীতে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া ছাত্র শুভঙ্কর মাহাতোর মৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করল পুলিশ। মৃতের বাবা গোপেশ্বর মাহাতোর অভিযোগের ভিত্তিতে শুভঙ্করের সাত বন্ধুকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে চার জন নাবালক।
রবিবার ওই সাত জনের সঙ্গে শুভদীপ কংসাবতী নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল বলে তাঁর পরিবারের দাবি। ওই সাত জন পুলিশকে জানিয়েছিল, রবিবার দুপুরে পুরুলিয়া-জামশেদপুর (৩২ নম্বর) জাতীয় সড়কে কংসাবতী নদীর সেতুর নীচে শিমুলিয়া ঘাটে নেমে তারা নদী পারাপার করছিল। এই সময়ই শুভঙ্কর চোরাস্রোতে তলিয়ে যায়। রবিবার তল্লাশি চালিয়েও শুভঙ্করকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে শুভঙ্করের দেহ উদ্ধার হয়।
ময়নাতদন্তের পর ছেলের দেহ নিতে এ দিন পুরুলিয়া সদর হাসপাতালের মর্গের বাইরে বসেছিলেন গোপেশ্বরবাবু। তিনি বলেন, ‘‘কয়েকটা ঘটনা মেলাতে পারছি না। শুভঙ্করকে যাঁরা চেনেন, তাঁরাই জানেন, ও জলকে ভয় পেত। সেই ছেলে জলে নামবে এবং তা-ও ভরা নদী পার হতে, এই বিষয়টিই আমার কাছে কেমন ঠেকছে! তাই পুলিশের কাছে ছেলের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছি।’’ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, ২০ তারিখ দুপুর আড়াইটে নাগাদ পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে তাঁর ছেলের মৃতদেহ কাঁসাই ব্রিজের বাঁ দিকে উদ্ধার হয়। তার নাক দিয়ে রক্ত বেরোতে দেখা যায়। উদ্ধারের আগে পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় জলে ডুবে থাকা সত্ত্বেও শরীর ফোলাফাঁপা হয়নি। উদ্ধারের পরে শরীর থেকে কোনও জল বের হয়নি। অথচ শুভঙ্কর সাঁতার জানত না। এই সব প্রেক্ষিতেই গোপেশ্বরবাবুর দাবি, তাঁর ছেলেকে আগে খুন করে পরে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

শুভঙ্করের দাদা দীপক মাহাতো জানান, তাঁর ভাইয়ের দেহের বুকের বাঁ দিকে কালশিটে দাগ রয়েছে। পিসতুতো দাদা নির্মল মাহাতো বলেন, ‘‘শুভঙ্কর থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরেছিল। উদ্ধারের সময় প্যান্টের একটা পা খোলা ছিল। জলের নীচে স্রোতে কি প্যান্টের একটা পা খুলে যেতে পারে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শুলনাম, ওর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হতে কেউ কেউ দেখেছেন।’’ গোপেশ্বরবাবুর প্রশ্ন, ‘‘ওর স্যান্ডো গেঞ্জিও তো ছেঁড়া ছিল। এই প্রশ্নগুলিই রহস্য তৈরি করেছে।’’

পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য জানান, মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে এ দিন তিন সাবালককে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের তিন দিন পুলিশ হেফাজতে পাঠান। আর নাবালক চার জনকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে হাজির করায় পুলিশ। তাদের আদ্রার মণিপুর হোমে পাঠানো হয়। ২৭ জুলাই ফের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করানো হবে।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy