পঁচিশ বছরের পরিচয়। সেই সম্পর্কের নিরিখেই ‘সুনন্দা নেই’— কথাটা এখনও মেনে নিতে পারছেন না রবীন্দ্রনাথের জীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ তথা সমাজকর্মী সুনন্দাদেবীর বন্ধু সত্যভামা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিনভর স্মৃতির পথে হেঁটে ভেবেছেন প্রিয় মানুষটির কথা।
প্রসঙ্গত, মংপুতে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি দেখে ফেরার পথে শনিবারই কালিম্পঙের রম্ভির কাছে গাড়ি উল্টে মৃত্যু হয় সুনন্দাদেবীর। জলপাইগুড়ির অনুভব হোমের আবাসিকদের সেলাই-সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কাজের তদারকি করতে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা সুনন্দাদেবী জলপাইগুড়িতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ি কংগ্রেসপাড়ার বাসিন্দা গৌরী চৌধুরী দত্ত (৫০)-র। সন্ধ্যার মুখে দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই গাড়িতেই থাকা আরও দশ জন। তাঁদের শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। এখনও সেখানেই তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‘‘এ ভাবেও চলে যেতে হয়!’’ রবিবার টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বার বার বলছিলেন সত্যভামাদেবী। বলছিলেন, ‘‘ক্লান্তিহীন ভাবে অনাথ এবং সমস্যায় থাকা মেয়েদের সাবলম্বী করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেন। ওঁর কাজ ছিল শিক্ষণীয়। যে দায়িত্ব উনি নিতেন তা একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতেন। ওঁর বড়ছেলে প্রিয়দর্শী শিলিগুড়িতে পৌঁছেছেন। যে টুকু জেনেছি উনিই সোমবার মরদেহ এখানে নিয়ে আসবেন। ছোট ছেলে সুপ্রতীক অস্ট্রেলিয়া থেকে বিমানে সোজা কলকাতায় নামবেন। তারপর এখানে, অন্ত্যেষ্টি হবে।’’
সামজে অনাথ এবং সমস্যায় থাকা মেয়েদের সাহায্য করার জন্য গঠিত সর্ব ভারতীয় মহিলা সমিতির বোলপুর শাখার প্রেসিডেন্ট ছিলেন সুনন্দাদেবী। তাঁর যে সংস্থা তাতেই কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন সত্যভামা। ঘটনায় ভীষণ মনখারাপ সুনন্দাদেবীর বাড়ির কেয়ারটেকার ঝর্না বিবির। ‘‘দিদি শান্তিনিকেতন ছেড়েছিলেন ২৯ ডিসেম্বর। সেই শেষ দেখা।’’ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছিলেন ঝর্না। সারাদিন শোকের মধ্যে কাটিয়েছেন। এ দিন বলেন, ‘‘উনি আমাকে মেয়ের মতো ভালবাসতেন। এখন কী হবে ভাবতে পারছি না। দিদি নেই, এ কথা মানতে পারছি না আমরা!’’