Advertisement
E-Paper

সব ওয়ার্ডে কবে মিলবে পরিস্রুত জল

পুরসভায় সম্প্রতি আনন্দবাজারের পাঠকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দুবরাজপুরের পুরপ্রধান পীযূষ পাণ্ডে। নাগরিকদের নানা দাবি-দাওয়া, প্রাপ্তি-প্রত্যাশার বিষয় ওঠে আলোচনায়। সঞ্চালনায় ছিলেন দয়াল সেনগুপ্ত। রইল বাছাই কিছু প্রশ্নোত্তর।তরুণ প্রজন্মের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়াটা এই শহরের একটা জ্বলন্ত সমস্যা। আমার ছেলেও এর কবলে পড়েছিল। এখন সে সুস্থ। আর কোনও ছেলে নতুন করে যাতে আসক্ত না হয়ে পড়ে, পদক্ষেপ করুক পুরসভা।

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৭

তরুণ প্রজন্মের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়াটা এই শহরের একটা জ্বলন্ত সমস্যা। আমার ছেলেও এর কবলে পড়েছিল। এখন সে সুস্থ। আর কোনও ছেলে নতুন করে যাতে আসক্ত না হয়ে পড়ে, পদক্ষেপ করুক পুরসভা। দিলীপ গড়াই, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এলাকায় ব্যাপক হারে পোস্ত চাষই সমস্যার মূলে। সবার আগে তা বন্ধ করতে হবে। পুরসভা সচেতনতা শিবির করেছে, পুলিশকে বলছি। ক্লাবদেরও বলা হয়েছে, খবর পেলেই পুলিশকে জানাতে। কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে কী ভাবে আরও প্রচার চালানো যায়, তা-ও দেখছি। মানুষকেও সজাগ হতে হবে।

নেশা করছে মূলত যুবসমাজ। তাই খেলাধুলো বা সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়িয়ে যুবসমাজকে নেশায় আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়। তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়ার কথা কি ভাবছে পুরসভা? রূপেন্দ্র মোদী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

Advertisement

পুরপ্রধান: আপনার সঙ্গে আমিও একমত। দু’টি ক্লাবের উদ্যোগে শহরের দু’টি জায়গায় ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্প শুরু হয়েছে। খেলার সরঞ্জাম কিনতে পুরসভা টাকা দিচ্ছে। তরুণদের ফুটবল কোচিংয়ের বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধিতেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, যুবসমাজকে আমরা উদ্বুদ্ধ করতে পারব।

তীব্র যানজট এখানে একটা বড় সমস্যা। জাতীয় সড়কেই নয়, সমস্যা রয়েছে অন্য রাস্তাতেও। যন্ত্রণা কিছুটা কমাতে পারে যে রাস্তা, সেই বাইপাসটির অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করছে পুরসভা? শুভজিত দে, ২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহরের ঠিক মাঝখানে গিয়েছে জাতীয় সড়ক। প্রাচীন জনপদ হওয়ায় এই শহরের ভিতরের রাস্তা সঙ্কীর্ণ। সম্প্রসারণের উপায় নেই। দক্ষিণ ও উত্তর ভারত থেকে আসা সব ভারী গাড়ি রানিগঞ্জ মোড় থেকে এই রাস্তা দিয়েই দুবরাজপুর হয়ে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে যায়। বাইপাস না থাকায় এই রাস্তায় যানজট সমস্যা সব চেয়ে প্রকট। আশার কথা, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বাইপাস গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য সড়কটি সংস্কারের জন্য পিডব্লিউডি-কে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিত্য প্রয়োজনে আশপাশ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসেন। তাঁদের এবং শহরবাসীর কাছে দু’টি সমস্যা বেশ বড়। এক, বাজারে শৌচাগার না থাকা। দুই, পার্কিংয়ের সমস্যা। পুরসভা এ ব্যাপারে কিছু করছে না কেন? নীহাররঞ্জন দাস, ১১ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: ইতিমধ্যেই দুবারজপুর আদালত, পাহাড়েশ্বর, পাওয়ারহাউস মোড়ে শৌচাগার গড়া হয়েছে। মাদৃক সঙ্ঘ ক্লাবের কাছে আরও দু’টি শৌচাগার গড়ার কাজে হাত দেব। একটি সাইকেল, মোটরবাইক পার্কিং তৈরির কাজ শুরু হবে ইন্দিরা মার্কেটের পিছনের দিকে। এ ছাড়া, পার্কিং নিয়ে স্থানীয় বাজার সংলগ্ন তিনটি ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হয়েছে। দিনের বেলা নিজেদের জায়গা পার্কিং হিসাবে ব্যবহার করতে দিলে তাঁদেরই আয় হবে।

শীতকাল পেরোলেই শহর জুড়ে মশার প্রকোপ বাড়ে। রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। মশা দমনে পুরপ্রধান কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? সঞ্জীব চৌধুরী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহর অঞ্চলে মশার প্রকোপ বাড়ার মূলে অসংখ্য স্যানিটারি টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কও দায়ী। নর্দমাগুলিতে মশারোধক স্প্রে করা যেমন জরুরি, তেমনই সেপটিক ট্যাঙ্ক আউটলেট ও গ্যাস পাইপের মুখও জাল বা নেটিং করে ঢেকে দেওয়া যায়, তা হলে মশার উপদ্রব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কিছু পুরসভা এ কাজ করে ভাল ফল পেয়েছে। দুবরাজপুরও তেমন পদক্ষেপ করবে।

পরিস্রুত পানীয় জল পান শহরের একাংশের মানুষ। কিন্তু বেশ কিছু ওয়ার্ডে এখনও ওই জল পৌঁছয়নি। কবে জল পাব? কিশোর অগ্রবাল, ২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এই পুরসভার আয়তন যথেষ্ট বড়। বর্তমান প্রকল্পে সব ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সমস্যা মেটাতে একটি পৃথক জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। কাজ শেষের মুখে। এ বছরের মধ্যেই প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা জল পাবেন।

দুবরাজপুরে নিকাশি ব্যবস্থা ভাল নয়। বর্ষায় সেই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয় সচেতনতার অভাব। নর্দমাগুলিতেই আবর্জনা ফেলেন এলাকাবাসী। আবর্জনা ফেলার ভ্যাটের অভাব রয়েছে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? শেখ সর্দার আলি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: এখন নিকাশি ব্যবস্থা অনেকাংশে ভাল করা গিয়েছে। তবে, সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা বাড়ির আবর্জনা নর্দমার মধ্যেই ফেলেন, এটাও সত্যি। পাকাপাকি ভাবে ভ্যাট করার সমস্যা থাকায় আমরা ৫০টি ফাইবারের ভ্যাট আনিয়েছি। সেগুলি বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসানোর ব্যবস্থা করছি। দুই, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে প্লাস্টিক ক্যারি প্যাকেট, কাপ ও থার্মোকল ব্যবহার পুরসভা এলাকায় নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। নিয়ম না মানলে জরিমানা হবে। সেই নির্দেশ যথাযথ ভাবে মানার চেষ্টা করছি।

‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ নিয়ে এত কর্মকাণ্ড। এই শহরে তার প্রয়োগ দেখিনি। আমার বাড়ির পিছনের খোলা জায়গায় সকাল-সন্ধ্যা পাড়ার বহু মহিলা শৌচকর্ম করেন। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, অনেকের বাড়িতেই শৌচাগার নেই। পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের সম্ভ্রমও নষ্ট হয়। পুরসভার জন্য এটা মোটেও ভাল বিজ্ঞাপন নয়।পুরপ্রধান কী বলেন? মিতুয়া মিত্র, ৫ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, দুবরাজপুর শহরে ৩০ শতাংশ ঘরেই শৌচাগার নেই। পুরসভাগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই প্রকল্প রূপায়ণে কোনও অনুদান নেই। অতীতে একটি প্রকল্পে শৌচাগার গড়ে দেওয়া হবে বলে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাকি টাকা না আসায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। ঊর্ধ্বতন সব পক্ষকে জানানো হয়েছে।

শহরে অনেক টোটো। কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। পরিবহণ দফতর যাতে টোটো নথিভুক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কথা বলুক পুরসভা। এ ছাড়া, দুবরাজপুর স্টেশনে দূরপল্লার কোনও ট্রেন থামে না। সংশ্লিষ্ট মহলে কথা বলে পুরসভা ব্যবস্থা নিক। মঙ্গল গড়াই, ৫ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: টোটো নিয়ে বিভিন্ন পুর-এলাকায় এ নিয়ে অশান্তি চলছে। ওই যান দুর্ঘটনা ঘটালে তাকে চিহ্নিত করাটাও সমস্যার। জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করবে। দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ দেওয়ার জন্য বহু বার আবেদন করা হয়েছে। পুরপ্রধান পদের বাইরে এসে একটা কথাই বলব— রাজনৈতিক ভাবে নয়, চাই জনগণের আন্দোলন। স্থানীয় ক্লাব, সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে একটা প্রতীকী রেল-রোকো করলে হয়তো রেেলর টনক নড়বে।

পাহাড়েশ্বরে মামা-ভাগ্নে পাহাড় ঘুরে দেখতে, শিবমন্দিরে পুজো দিতে অনেক মানুষ আসেন। কিন্তু বাসস্টপ থেকে পাহাড়েশ্বরে আসতে গেলে বেশ খানিকটা পথ হঁাটতে হয়। পুরপ্রধান কি পাহাড়েশ্বরের কাছে বাস থামানোর ব্যবস্থা করবেন? নারায়ণী আলে, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শুধু পাহাড়েশ্বর নয়, অন্য দিক থেকে দুবরাজপুর ঢোকার সময়ে ফকিরবাবার মাঠের ওখানে বাস থামানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তাতে যাত্রীদের পাশাপাশি ভারী মালপত্র তোলা-নামানোতেও সুবিধা হবে। তাতে যানজট সমস্যাও কিছুটা মিটবে।

সবুজ নষ্ট হচ্ছে। এটা শহরের জন্য ভাল নয়। শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য কী ভাবনা পুরসভার? বিদ্যুৎবরণ দে, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। আলমবাবার মাজারের কাছে একটি পার্ক করার জন্য ৫ কোটি টাকার, অপর একটি প্রকল্প জমা দেওয়া পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে। পাহাড়েশ্বর পরিচ্ছন্ন রাখার কথাও আমরা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি।

দুবরাজপুরে একাধিক পুকুর রয়েছে। সেগুলি সংস্কার, ঘাট বাঁধানোর প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের বাড়ির সামনেই একটি পুকুর রয়েছে, তা অাবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে। পুরপ্রধান যদি দেখেন। বৈশাখী কবিরাজ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড

পুরপ্রধান: পুকুর সংস্কার করা হচ্ছে। ঘাটও বাঁধানো হচ্ছে। বাকি পুকুরগুলির ব্যাপারেও পুরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy