Advertisement
E-Paper

সভা, পাল্টা মিছিলে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের দ্বন্দ্ব

দু’দিন আগে দলের এক গোষ্ঠী সভা ডেকেছিল। পাল্টা হিসাবে অন্য গোষ্ঠী শনিবার মানবাজারে মিছিল করল সেবাদলের ব্যানারে। সেই মিছিলের পাল্টা কী করা যায়, তা ঠিক করতে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ফের রবিবার একটি সভা করল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০১:১৯

দু’দিন আগে দলের এক গোষ্ঠী সভা ডেকেছিল। পাল্টা হিসাবে অন্য গোষ্ঠী শনিবার মানবাজারে মিছিল করল সেবাদলের ব্যানারে। সেই মিছিলের পাল্টা কী করা যায়, তা ঠিক করতে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ফের রবিবার একটি সভা করল।

আর এ ভাবেই মানবাজারের বিসরি অঞ্চলে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। বিসরি অঞ্চলে তৃণমূলের মধ্যে দু’টি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। দল সূত্রেই জানা যাচ্ছে, এক গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন দলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি দিলীপ বাউরি। অন্য গোষ্ঠীর মাথা তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য দিলীপ পাত্র। দিলীপ বাউরি সম্প্রতি দলের সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় দিলীপ পাত্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন দলের কর্মীদের একাংশ। তাঁরা অভিযোগ করেন, “দিলীপ পাত্র দলের জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। পদের অপব্যবহার করে এবং গত এক বছর ধরে পঞ্চায়েত প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের বরাত নিজের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের পাইয়ে দিচ্ছেন। সিপিএম আমলে যে সমস্ত ঠিকাদারের কাজ নিয়ে আমরাই অভিযোগ জানিয়েছি, দিলীপ পাত্র তাঁদেরই সঙ্গে রফা করে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন।” দিলীপ বাউরির দাবি, “দিলীপ পাত্রের নানা কাজকর্মের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। উনি একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। ওই সভায় দিলীপ পাত্রকে আমন্ত্রণ জানান হলেও উনি আসেননি।”

দলে যে দু’টি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন দিলীপ পাত্র। কিন্তু দিলীপ বাউরিদের যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, “পঞ্চায়েত গঠন হওয়ার পরে দলের একাংশ স্থানীয় নেতা-প্রধানকে হাত করে দূর্নীতিমূলক কাজে জড়িয়েছিলেন। এতে সরকারি কর্মচারীদের একাংশও জড়িত ছিলেন। কাজে স্বচ্ছতা আনতে আমি হাল ধরি।” তাঁর আরও দাবি, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। এবং অন্য গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। দিলীপ পাত্র বলেন, “আমাকে না জানিয়ে ওঁরা ওই সভা ডেকেছিলেন। ওখানে আমি যাই কী করে?”

দিলীপ বাউরিদের সভার পাল্টা হিসাবে শনিবার দলীয় কর্মসূচি ছাড়াই হঠাত্‌ মানবাজারে মিছিল কেন?

দিলীপ পাত্রের অভিযোগ, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো দলের গোষ্ঠী কোন্দলে মদত দিচ্ছেন। কেন না ব্লক সভাপতি হিসাবে আলোচনায় তাঁর নামও আছে। ওই দৌড় থেকে তাঁকে সরানোর জন্যে প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতিকে (দিলীপ বাউরি) তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। দিলীপ পাত্রের দাবি, “এর ফলে সিপিএম খানিকটা অক্সিজেন পেয়ে এলাকায় বৈঠক শুরু করে দিয়েছে। সিপিএমকে দেখানোর জন্যই শনিবার হঠাত্‌ মিছিল করেছি।” সেবাদলের ব্যানারে মিছিল হলেও সে খবর জানেন না তৃণমূলের সেবা দলের জেলা চেয়ারম্যান সৌমেন সরকার। তিনি জানান, হঠাত্‌ কেন ওই মিছিল হয়েছে, কারা ছিলেন সেখানে, তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

গোষ্ঠী কোন্দলে মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে দেবেন্দ্রনাথবাবু বলেন, “ওখানে দলের অঞ্চল সভাপতি আছেন দিলীপ বাউরি। আমি খবর নিয়ে জেনেছি অঞ্চল সভাপতিকে বাদ দিয়ে দিলীপ পাত্র নিজের মর্জিমতো পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন। তা ছাড়া, ওঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও কানে এসেছে। এই সব বিষয় দলগতভাবে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য দিলীপ বাউরিকে সভা ডাকতে বলেছিলাম। সভায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দিলীপ পাত্র উপস্থিত হননি । অথচ শুনেছি দলের কাউকে না জানিয়ে হঠাত্‌ শনিবার মিছিল বার করেছিলেন।” বিসরি পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সজ্জিতা বেসরা বলেন, “আমি নিয়ম মেনে পঞ্চায়েত চালাই। নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।”

রবিবার বিসরি পঞ্চায়েতের কমিউনিটি হলে দিলীপ বাউরির নেতৃত্বে ফের সভা হয়। দল সূত্রের খবর, ওই সভায় দিলীপ পাত্রের ক্ষমতা কী ভাবে খর্ব করা যা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ চৌধুরির কটাক্ষ, “নিজেদের গোষ্ঠী কোন্দলেই শেষ হয়ে যাবে তৃণমূল!”

tmc manbazar clash
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy