Advertisement
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

জৈব-সব্জির বাজার ধরতে মরিয়া চাষিরা

জৈবসারে উৎপাদিত সব্জি বিক্রি হচ্ছে কলকাতায়। মধ্যস্থতা করছে মুর্শিদাবাদ উদ্যানপালন দফতর। খুশি চাষিরা, তৃপ্ত সরকারি কর্তারাও। গত এক বছর ধরে জৈবসারে সব্জি ফলিয়েও আশানুরূপ দাম পাচ্ছিলেন না চাষিরা।

জৈব সারে ফলেছে ঢ্যাড়শ। —নিজস্ব চিত্র।

জৈব সারে ফলেছে ঢ্যাড়শ। —নিজস্ব চিত্র।

বিমান হাজরা
রঘুনাথগঞ্জ শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০১৫ ০১:১৮
Share: Save:

জৈবসারে উৎপাদিত সব্জি বিক্রি হচ্ছে কলকাতায়। মধ্যস্থতা করছে মুর্শিদাবাদ উদ্যানপালন দফতর। খুশি চাষিরা, তৃপ্ত সরকারি কর্তারাও।

Advertisement

গত এক বছর ধরে জৈবসারে সব্জি ফলিয়েও আশানুরূপ দাম পাচ্ছিলেন না চাষিরা। সম্প্রতি জেলা উদ্যানপালন দফতর কলকাতার কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে চাষিদের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। কলকাতার একটি ‘রিটেল আউটলেট’ সংস্থা মুর্শিদাবাদের জৈব-চাষের সব্জি বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে আগ্রহ দেখানোয় ঢ্যাঁড়শ, পটল, উচ্ছে, বরবটি, মিষ্টি কুমড়ো, লঙ্কা, লাউ ইত্যাদি ৬০ কিলোগ্রাম জৈব-সব্জি পাঠানো হয়। বাজারের দামের চেয়ে গড়ে সেই সব্জির দাম কিলোগ্রামে প্রায় ৬ টাকা বেশি মিলেছে চাষিদের। মিলেছে যাতায়াতের খরচও।

মুর্শিদাবাদের উদ্যানপালন দফতরের সহ-উদ্যানবিদ শুভদীপ নাথ বলেন, ‘‘খালি চোখে জৈব ও রাসায়নিক সারে উৎপাদিত সব্জির মধ্যে চিহ্নিত করাটা মুশকিল। কিন্তু স্বাদ এবং খাদ্যগুণে ফারাক বিস্তর।’’ তিনি জানান, কলকাতায় বড় বড় শপিং মলগুলিতে সব্জি কেনা হয় মূলত ঠিকাদারের মাধ্যমে। ফলে সেখানে ক্ষুদ্র চাষিদের পক্ষে বাজার ধরা খুবই মুশকিল। ফড়েদের হাত ঘুরে সব্জি বিক্রির ফলে বাড়তি পয়সাও পাবেন না তাঁরা। একই সঙ্গে, জৈব সব্জির রিটেল আউটলেট মালিকেরা চান উত্পাদিত সব্জিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না-করার গ্যারান্টি।

তাঁর কথায়, ‘‘মুর্শিদাবাদের যে সব চাষিরা জৈব-সব্জি চাষ করছেন তাঁরা সকলেই উদ্যানপালন দফতরের পরামর্শে ও নজরদারিতে রয়েছেন। তাই চাষিদের হয়ে চারটি রিটেল আউটলেটের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। ওরা সব্জি নিতে রাজিও হয়েছে।’’ সেই মতো জেলায় এসে জৈব চাষ দেখে গিয়েছেন তাঁরা। একটি আউটলেটে পরীক্ষামূলক ভাবে কিছু সব্জি পাঠানো হয়। সেই সব্জির গুণমান পরীক্ষা করে তারা সন্তুষ্ট। সব্জি নিতে রাজিও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বাস জৈব সব্জির বাজারে এক বার ঢুকে পড়তে পারলে পরবর্তীতে জৈব-চাষের পরিধিও বাড়বে জেলায়।’’

Advertisement

যে বেসরকারি রিটেল আউটলেট সংস্থা মুর্শিদাবাদে জৈব চাষের সব্জি কিনতে আগ্রহী হয়েছে তার কর্ণধার বৈশালী ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বাজারে জৈব সব্জির চাহিদা আছে যথেষ্ট পরিমাণে। দর দাম নিয়েও ক্রেতারা তেমন ভাবছেন না। চাষিদেরও বলা হয়েছে বাড়তি কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শর্ত একটাই, উত্পাদিত সব্জিতে রাসায়নিক সার বা ওষুধের প্রয়োগ চলবে না। সেই আস্থা ধরে রাখতে পারলে জৈব-সব্জি চাষে বাজার পেতে পারে মুর্শিদাবাদ।’’

সেটাই তাঁদের বাড়তি উৎসাহ যোগাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন জৈব সব্জির উত্পাদনকারীরা। খুশি জেলা উদ্যানপালন দফতরের কর্তারাও। দফতরের হিসেবে মুর্শিদাবাদে প্রায় ৫০ জন চাষিকে জৈব সব্জি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত ২২ জন চাষি সেই উত্পাদন শুরু করেছেন। তাঁদেরই একজন বেলডাঙা-১ ব্লকের খিদিরপুর গ্রামের সুদেব মণ্ডল তিন বিঘে জমিতে জৈব-সব্জি চাষ শুরু করেছেন। সুদেববাবু বলেন, ‘‘অন্য রাজ্যে চাহিদা রয়েছে জৈব-সব্জি ও ফলের। সেই উত্সাহেই জৈব সব্জি চাষে প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করি। এখন চাষে আমরা অনেকটাই সফল।’’

কী রকম?

চাষিরা জানালেন, চাষে একটা মোটা টাকা খরচ হয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কিনতে। আগে জমিতে যেহেতু রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে তাই প্রথম প্রথম জৈবসার প্রয়োগ করার পরেও সব্জির উত্পাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে চড়া দামের রাসায়নিক সার কেনার বদলে খোল, কেঁচো সার, মুরগির বিষ্ঠা, গোমূত্র ইত্যাদি দিয়ে জৈব সার বানানো হয়েছে বাড়িতেই। একই ভাবে কীটনাশক তৈরি করা হয়েছে নিম পাতার রস, নিমের দানা ইত্যাদি দিয়ে। ফলে খরচ অনেকটাই কমেছে। ক্রমাগত জৈবসার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বাড়লে উত্পাদনের ঘাটতিও কমবে বলে তিনি আশা করেন।

কিন্তু সমস্যা হল, স্থানীয় বাজারে রাসায়নিক প্রয়োগে উত্পন্ন সব্জি ও জৈব-সব্জির দামে কোনও ফারাক নেই। তাঁর কথায়, ‘‘মুড়ি-মুড়কির একদর।’’ ফলে জৈব-সব্জির জন্য যে বাড়তি দাম আশা করেছিলেন চাষিরা তা মিলছিল না। এই অবস্থায় কলকাতায় পরীক্ষামূলক জৈব-সব্জি বিক্রির ফল আশানরূপ হওয়ায় জেলার অন্যান্য জৈব চাষির মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে।

গাড়ি চুরি। বাড়ির গ্যারাজ থেকে চুরি হয়ে গেল গাড়ি। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুরের বাইগাছি মোড় এলাকায় মিষ্টি ব্যবসায়ী সমীর সাহার বাড়িতে। সোমবার সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার গ্যারাজে গাড়িটি নেই। সমীরবাবু বলেন, ‘রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফিরে দেখি গাড়িটা রয়েছে।’’ পুলিশের দাবি, দুষ্কৃতীরা গাড়িটাকে ঠেলতে ঠেলতে কিছু দূর নিয়ে যাওয়ার পরে সেটাকে চালিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.