ভর্তির পরে রোগী কেমন রয়েছেন, তা জানতে পারছেন না পরিজনেরা। সংক্রমণ শুরুর পাঁচ মাস পরে এই অভিযোগের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে। সেই ‘অসুখ’ সারাতেই নবান্নের দাওয়াই ‘কোভিড-পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। রাজ্য সরকারের দাবি, এ বার থেকে রোগীদের শারীরিক অবস্থার সবিস্তার তথ্য প্রতিদিন জানা যাবে। পরিজনের অনুরোধের ভিত্তিতে রোগীর শারীরিক তথ্য জানানো হবে স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে ।
কয়েক দিন আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে রোগীর তথ্য না পেয়ে বিক্ষোভ দেখান পরিজনেরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজনের বক্তব্য ছিল— ‘‘সাধারণ শয্যা থেকে বাবাকে যে সিসিইউ-তে দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের কাউকে জানানোই হয়নি।’’
রোগীর পরিজনদের খবরাখবর দেওয়ার জন্য এম আর বাঙ্গুর, বেলেঘাটা আই ডি-সহ বিভিন্ন কোভিড হাসপাতাল আগেই এ সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও অভিযোগে ছেদ পড়েনি। সোমবার নবান্নের ঘোষণা এই বিষয়টিকে মান্যতা দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য সচিব রাজীব সিংহ জানান, মেডিক্যাল কলেজ, সিএমসিআই এবং এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ‘কোভিড-পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ সুবিধা চালু করা হয়েছে। ক্রমে রাজ্যের ৮৪টি কোভিড হাসপাতালেই এই সুবিধা কার্যকর হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য পেতে চাইলে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দেওয়া হবে পরিজনকে। ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট অংশে সেই ওটিপি টাইপ করলেই স্বাস্থ্য-তথ্য হাতে পাবেন আত্মীয়। রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা, ভেন্টিলেটর লাগছে কিনা, রক্তচাপের মাত্রা, চিকিৎসায় কতটা সাড়া দিচ্ছেন, ইত্যাদি সবই জানা যাবে।
সরকারের দাবি, ১১৭৭৫ কোভিড-শয্যার প্রতিটিতে অক্সিজেনের সুবিধা রয়েছে। ‘হাই-ফ্লো ন্যাজাল অক্সিজেন’ প্রক্রিয়া ভেন্টিলেটরের থেকেও ভাল কাজ করছে বলে মনে করছেন সরকারি বিশেষজ্ঞরা। তাই সেই সুবিধা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এমন ৩০০টি যন্ত্র কিনেছে সরকার। আরও ৩০০টির বরাত দেওয়া হয়েছে। কেউ সরকারকে এমন যন্ত্র দিতে চাইলে , তা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারি তথ্য, এই মুহূর্তে প্রতিদিন ৩৪ হাজার করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইসিএমআর-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রতি ১০ লক্ষে ১৪০টি পরীক্ষা হওয়া উচিত। সে জায়গায় রাজ্যে হচ্ছে ৩৭৭টি পরীক্ষা। মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় ‘কর্ড ব্লাড’ কাজে লাগানো যায় কি না, সে ব্যাপারে গবেষণা শুরু করার নির্দেশ এ দিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের দাবি, ৪.৫ শতাংশ থেকে কমে এখন মৃত্যু হার হয়েছে ২ শতাংশ।
(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।
• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)