মেয়ের ধর্ষণ এবং খুনের বিচার চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তখন তিনি নেহাতই মধ্যবিত্ত পরিবারের বধূ। সেদিনকার মুখ্যমন্ত্রী এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী। আর নির্যাতিতার মা বর্তমানে জনপ্রতিনিধি। সোমবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করার সময় সেই ‘যাত্রা’ তুলে ধরলেন পানিহাটির বিধায়ক তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা। নবান্নে বসেই সমাজমাধ্যমে খোঁচা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে।
সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন রত্না দেবনাথ। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক জানান, তিনি রয়েছেন নবান্নের চোদ্দোতলায়। যেখানে একদা মমতা বসতেন, সেই ঘরে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করছেন। আরজি করের নির্যাতিতার মা লেখেন, ‘‘সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।’’ তার পরের লাইনে রত্না লিখেছেন, ‘‘আজ আমি এবং মমতা দু’জনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছি। আর উনি (মমতা) ওঁর চোদ্দোতলার গদি হারিয়েছেন।’’
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়, রত্না লিখেছেন, তৃণমূলনেত্রী এবং তাঁর দলের আরও করুণ পরিণতি দেখতে পাবেন সকলে। পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘অপেক্ষা করুন, উনি ওঁর অপরাধী টিম, সকলের আরও করুন পরিণতি দেখতে পাবেন—আমার পরিচয়, আমি ডক্টর দেবনাথের গর্বিত মা।’’
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআই-কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। তদন্তের পরিধি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে ওই দলকে আদালতে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসক-পড়ুয়া মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত আরও অনেকে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রত্না। সন্দেহভাজন প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন করেছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্বামী এর আগে বেশ কয়েক বার মমতা-সহ তাঁর পুলিশকে নিশানা করেছেন।
ইতিমধ্যে আরজি কর কাণ্ডের সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই সময়ে মমতার কী ভূমিকা ছিল, তা-ও সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন। নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘বিধায়ক হলেও আমার জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গিয়েছে। একটাই লক্ষ্য, ন্যায়বিচার পাওয়া। যে অভিযুক্তদের নাম মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছি, তাঁদের কথা আগেও তদন্তকারীদের জানিয়েছিলাম।’’