বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় লোকভবন (সাবেক রাজভবন)-এ শপথ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। নবান্নের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। রাজ্যপালের এই শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। নতুন রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পরে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় আরএন রবিকে। এত দিন তিনি ছিলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। বুধবারই কলকাতায় পৌঁছে যাচ্ছেন আনন্দ বোসের উত্তরসূরি। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিল ঘিরে এমকে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি, রাজ্যপালকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিনেরা। এ বার আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসাবে সেই রবিকেই পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে থাকা রবির নাম পরবর্তী রাজ্যপাল হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পর পরই সমাজমাধ্যমে মমতা লিখেছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। এর পরে তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর (বোস) পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না’।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেও বিদায়ী রাজ্যপাল আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা। ওই সৌজন্য সাক্ষাতের পর মমতা বলেন, ‘‘ওঁর (সিভি আনন্দ বোস) উপর অবিচার হয়েছে। অন্যায় হয়েছে।’’ আচমকা রাজ্যপালের পদ থেকে বোসকে সরিয়ে দেওয়া ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করেন মমতা।