নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই বামেদের আসন ও প্রার্থী তালিকা ঠিক করে ফেলতে চাইছে সিপিএম। কিন্তু বামফ্রন্টের মধ্যে আসন ভাগাভাগির জট এখনও ছাড়ছে না। বরং, আসন নিয়ে আলোচনার ধরনে এ বার ক্ষুব্ধ আর এক বাম শরিক আরএসপি!
বামফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে রাজ্যে ২৩টি বিধানসভা আসনে লড়ত আরএসপি। কংগ্রেস এবং আইএসএফের সঙ্গে বামেদের আসন সমঝোতার প্রেক্ষিতে গত ২০২১ সালে তাদের দেওয়া হয়েছিল ১১টি আসন। এ বার কংগ্রেস একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শরিকদের ভাগে পাঁচ বছর আগের তুলনায় কিছু আসন বাড়তে পারে বলেই প্রাথমিক প্রস্তুতি হয়েছিল। কিন্তু আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মঙ্গলবার সিপিএমের সঙ্গে ফের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তেমন কোনও ইঙ্গিত পাননি আরএসপি নেতৃত্ব। তিন শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি ও সিপিআইয়ের কাছে থাকা কিছু আসন এ বার অদল-বদল করে নিজেদের হাতে নিতে চায় সিপিএম। সূত্রের খবর, আরএসপি-কে কয়েকটি আসন ছাড়তে বলা হলেও বিকল্প আসনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত এ দিনের বৈঠকে দেওয়া হয়নি। আসন-সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এমতাবস্থায় ক্ষুব্ধ আরএসপি নেতৃত্ব তাঁদের অবস্থান জানিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। সেই চিঠিতে আরএসপি-র তরফে ১৯টি আসনের তালিকা দেওয়া হতে পারে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের অনুপস্থিতিতে এ দিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান ছাড়াও ছিলেন শরিকদের সঙ্গে আলোচনার ভারপ্রাপ্ত দুই নেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তী। তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সব পক্ষের সিদ্ধান্তের কথাই তাঁরা বলেছেন। আরএসপি-র তরফে ছিলেন রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়, বর্ষীয়ান নেতা সুভাষ নস্কর, অশোক ঘোষ ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে ফ ব, সিপিআই এবং ফ্রন্টের বাইরের সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সঙ্গে ফের আলোচনা হবে। আর বাম দলগুলির আসন-ভাগ ঠিক না-হলে আইএসএফের ‘চাপে’রও নিষ্পত্তি করতে পারছে না আলিমুদ্দিন স্ট্রিট!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)