কখনও স্বাস্থ্য দফতর, কখনও সেচ দফতর, কখনও আবার বন দফতরের আধিকারিক সেজে সটান ব্যাঙ্কে গিয়ে হাজির হতেন। তার পর ভুয়ো স্যালারি স্লিপ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিতেন। এ ভাবে ছ’দফায় মোট ৬২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন চার যুবক। ওই প্রতারণা চক্রের ‘মূলচক্রী’কে ধরল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম আলাউদ্দিন শাহ। ৩৪ বছরের ওই যুবক বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বর্ধমান থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশের দাবি, তিনিই এই প্রতারণার মূলচক্রী। আলাউদ্দিন ওই ব্যাঙ্কের সেল্স এগ্জিকিউটিভ ছিলেন। ভুয়ো নথি জমা দিয়ে ঋণ নেওয়ার কাজটি করতেন তিনিই। উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় আগেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বার ধরা পড়লেন চতুর্থ তথা মূল অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের মাঝামাঝি। অভিযোগ, ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বেতনের ভুয়ো নথি দেখিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ নেন কয়েক জন। একটি ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা থেকে মোট ছ’টি ঋণ নেওয়া হয়। অভিযুক্তেরা সকলেই নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিক হিসাবে। কেউ সেচ দফতর, তো কেউ স্বাস্থ্য দফতর, কেউ আবার বনবিভাগের আধিকারিক সেজে এসেছিলেন! চাকরি এবং বেতন সংক্রান্ত ভুয়ো নথিও জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। এ ভাবে ছ’বারে মোট ৬২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। জানা যায়, মূলত বাঁকুড়া এবং বর্ধমানের একদল ব্যক্তি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের খোঁজে দুই জেলার একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। জুলাই মাসে বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে আকাশ ধীবর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়, যিনি ঋণের জন্য ভুয়ো নথিপত্র বানানোর কাজ করতেন। এই কাজের জন্য অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ‘পারিশ্রমিক’ও নিয়েছিলেন আকাশ। মোট ৬২ লক্ষ টাকার মধ্যে ২১ লক্ষ টাকাই তাঁর কাছ থেকে মেলে। এর পর একে একে বর্ধমান ও হাওড়া থেকে ধরা পড়েন রানা বাল্মীকি এবং সৌমিত্র রায় নামে আরও দু’জন। তাঁদের জেরা করে প্রতারণা চক্রের মূল মাথা আলাউদ্দিনের নাম উঠে আসে। এত দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষমেশ মঙ্গলবার বর্ধমান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।