মেঘালয়ের আঞ্চলিক নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল। সামনেই মেঘালয়ের গারো পাহাড় স্বতন্ত্র জেলা পরিষদ (জিএইচএডিসি)-এর নির্বাচন রয়েছে। ওই নির্বাচনে ১৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।
আগামী ১০ এপ্রিল নির্বাচন রয়েছে জিএইচএডিসি-র। মোট ৩০ আসনের জিএইচএডিসি-র মধ্যে ২৯টি আসনে (একটি আসন মনোনীত সদস্যের জন্য) ভোট হবে। তার মধ্যে ১৪ আসনে এনপিপি-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিল তৃণমূল। মেঘালয়ে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই শক্তি বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। সে রাজ্যের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনও রয়েছে তৃণমূলের হাতে। তৃণমূল বিধায়ক মুকুল সাংমা সে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
যে ১৪টি আসনে তৃণমূল প্রার্থী দিয়েছে, তার মধ্যে তুরাও রয়েছে। এই আসনটি পড়ে দক্ষিণ তুরা বিধানসভা কেন্দ্র মধ্যে। দক্ষিণ তুরা হল এনপিপি-প্রধান তথা সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার বিধানসভা এলাকা।
জিএইচএডিসি-র ক্ষমতা বর্তমানে সে রাজ্যের শাসকদল ন্যাশনাল পিপ্স পার্টি (এনপিপি)-র হাতেই রয়েছে। উত্তর-পূর্বে বিজেপির শরিক দলগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনরাড সাংমার এনপিপি। যদিও এনপিপি-বিজেপির সমীকরণ আঞ্চলিক রাজনীতির উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে। কনরাডের দল সরাসরি এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত নয়।
আরও পড়ুন:
জিএইচএডিসি-র গত বারের নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে হাত ধরাধরি করেই জিএইচডিসি নিজেদের হাতে ধরে রেখেছিল তারা। ২০২১ সালের ভোটে এই ২৯টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। সাংমার এনপিপি একক ভাবে জিতেছিল ১১টি আসনে। তাদের জোটসঙ্গী বিজেপি পেয়েছিল দু’টি আসন। কংগ্রেস এবং এনপিপি-ও ইতিমধ্যে প্রথম প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছে জিএইচএডিসি-র ভোটের জন্য। প্রচারও শুরু করে দিয়েছে দলগুলি।
২০২৩ সালে মেঘালয়ের বিধানসভা ভোটে পাঁচটি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। কংগ্রেসও পেয়েছিল পাঁচটি আসন। ওই বছর মেঘালয়ের ৬০ আসনের মধ্যে ২৬টিতে একক ভাবে জিতেছিল এনপিপি। ১২টি আসনে জেতা ইউডিপি এবং আরও কিছু ছোট দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিল তারা। ওই বছরের ভোটের পরে প্রাথমিক ভাবে মেঘালয়ের বিধানসভায় কোনও দলই বিরোধী দলনতার পদ পায়নি। পরে কংগ্রেসের চার বিধায়ক দল ছেড়ে শাসকজোটে যোগ দেন। তখন থেকেই বিরোধী দলনেতার পদ পান তৃণমূল বিধায়ক তথা সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা।