মতুয়া সমাজে এসআইআর-উদ্বেগের আবহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। আলোচনা করলেন সিএএ নিয়ে। আর রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। মমতা বিভ্রান্ত করায় অনেক শরণার্থী সিএএ-তে আবেদন করেননি বলে দাবি করলেন শান্তনু। পাল্টা আক্রমণ করে তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্যা মমতাবালা ঠাকুর বললেন, ‘‘মতুয়াদের বিপদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী।’’
এসআইআর-এর কারণে মতুয়া ভোটারদের একাংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তার জেরে শান্তনুর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বনগাঁ আর পার্শ্ববর্তী রানাঘাটেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, ওই দুই লোকসভা কেন্দ্রেই মতুয়া ভোটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি নিয়ে শান্তনু মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা ইতিমধ্যেই একাধিক বার করেছেন। আপাতত কিছু নাম বাদ গেলেও পরে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়ে সকলকে আবার ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু তাতে মতুয়া এলাকায় উদ্বেগের সম্পূর্ণ নিরসন ঘটেনি। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দফায় দফায় নানা আর্জি পেশ করে চলেছেন মতুয়া সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু। বুধবার তিনি গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির কাছে।
সিএএ বা এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন, এ কথা শান্তনু কোথাও বলেননি। তবে বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে আসার পরে ফোনে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিএএ নিয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে। শান্তনু বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি, মতুয়াদের সামাজিক সুরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিএএ নিয়েও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’’ সিএএ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে তিনি কী বলেছেন, বনগাঁর সাংসদ তা বিশদে জানাননি। তবে শান্তনু জানিয়েছেন যে, সিএএ এই মুহূর্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তার মাধ্যমে মতুয়া সমাজ কত বড় সুরক্ষা কবচ পেয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কিছু কথা বলেছেন। বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে শান্তনুরা ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসার জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সিএএ নামক ‘রক্ষাকবচ’-এর সুবিধা যে অনেক মতুয়া শরণার্থী এখনও নিতে পারেননি, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী বলে শান্তনু বুধবার তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সিএএ পাশ হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে রাস্তায় নেমেছিলেন। ক্যা-ক্যা, ছি-ছি করতে করতে গোটা বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তাতে অনেক মানুষ ভুল বুঝে সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেননি। এখন এসআইআর শুরু হতেই তাঁরা বিপদে পড়েছেন। এর দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে।’’
শান্তনুর পরিবারেরই সদস্যা তথা তৃণমূলের সাংসদ মমতাবালার পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ঘরে ঘরে পৌঁছোতে পারল না কেন? এসআইআর তো এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। তা হলে সিএএ-র ক্ষেত্রে সেটা করা গেল না কেন?’’ মমতাবালার কথায়, ‘‘শান্তনু নিজেই বলছেন যে, এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ গেলে কিছু যায়-আসে না। তিনিই আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষ দিচ্ছেন কী ভাবে? মতুয়াদের নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে লড়ছেন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।’’
সিএএ এবং এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে গত ৩০ ডিসেম্বর শান্তনুর কথা হয়েছিল কলকাতায়। মতুয়াদের সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন শাহ। দিন দুয়েক আগে শাহের সঙ্গে সে বিষয়ে আবার তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে শান্তনু জানিয়েছেন। সে আলোচনার বিষয়েও বিশদ তথ্য তিনি প্রকাশ করতে চাননি। তবে বলেছেন, ‘‘অমিত শাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, মতুয়াদের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না-পড়ে, তা নিশ্চিত করতে তিনি পদক্ষেপ করছেন।’’