আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না, এমনই আশ্বাস মিলেছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বুধবার কমিশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, একসঙ্গে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ভোটের কাজে প্রায় ৩৫ হাজার রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও কমিশনকে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে এই আশ্বাসের মধ্যেও অতীতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে চাপা টানাপোড়েন যে থেকেই যাচ্ছে, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অতীতে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। তবে সবচেয়ে তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছে ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশন। সে সময় রাজ্য সরকারের তরফে অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে ভোটকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ করার নামে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই সংঘাত চরমে ওঠে। ওই নির্বাচনে প্রায় ৯০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছিল। তদসত্ত্বেও ভোটপর্বে প্রায় ২০০টিরও বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয় এবং অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু ঘটে বলে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল। তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্য দিকে, কমিশন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বাধিক, প্রায় এক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয় পশ্চিমবঙ্গে। সে বার ভোটের সাত দফা ঘোষণাকে কেন্দ্র করেও রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল, সংবেদনশীল বুথের সংখ্যা বেশি— প্রায় ৩০ শতাংশ বুথকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাহিনী নিয়ে আশ্বাস মিললেও অতীতের সংঘাতের স্মৃতি যে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে, তা স্পষ্ট।