Advertisement
E-Paper

পুণ্যস্নানে গিয়ে ভেসে গেলে? গঙ্গাসাগর মেলায় উদ্ধারকর্তা এক আধুনিক সাঁতারু! ক্লান্তিহীন ‘নুলিয়া’ বইতে পারে ১ টন ওজন

এত দিন বড়ও কোনও জনসভা কিংবা বিশাল কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করেছে পুলিশ-প্রশাসন। এই প্রথমবার ড্রোনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারের কাজে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪১
remote controlled lifebuoy drone

গঙ্গাসাগর মেলায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এল নতুন যন্ত্র। —নিজস্ব ছবি।

একের পর এক ডুবন্তকে উদ্ধার করেও ক্লান্তি অনুভব করে না সে। অলিম্পিক্সে অংশ নেওয়া কোনও সাঁতারুর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে সাঁতার কাটতে পারে। লোকজন তো বটেই, ছোটখাটো গাড়িকেও টেনে তুলতে পারে একা। এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় এমনই যন্ত্রের ব্যবহার করছে রাজ্য প্রশাসন।

এত দিন বড়ও কোনও জনসভা কিংবা বিশাল কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করেছে পুলিশ-প্রশাসন। এই প্রথম বার ড্রোনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারের কাজে। গঙ্গাসাগর মেলা মানেই লক্ষ লক্ষ ভক্ত এবং দর্শনার্থীর সমাগম। এমন বড় আয়োজনে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়। তাই এ বার আরও বেশি সতর্ক প্রশাসন। নেওয়া হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য। গঙ্গাসাগরে ডুব দিতে গিয়ে যাতে কেউ বিপদে না পড়েন, সে দিকে নিরাপত্তারক্ষীরা তো নজর রাখবেনই। তার পরেও দুর্ঘটনা হলে এগিয়ে যাবে রিমোটচালিত ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’। মকর সংক্রান্তিতে বঙ্গোপসাগরের বুকে অতন্দ্র প্রহরী সে। সে-ই উদ্ধারকর্তা।

আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। চলবে এক সপ্তাহ। এই ক’টা দিনের জন্য সাগর মেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ওয়াটার ড্রোন। কেউ জলে ডুবে গেলে দ্রুত উদ্ধারকাজের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে সে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’টি পুরোপুরি রিমোটচালিত। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যেতে সক্ষম সে। শুধু সেই ডুবন্ত ব্যক্তিকে ড্রোনটা ধরে থাকতে হবে। তাকে পারে টেনে আনার দায়িত্ব পালন করবে ‘আধুনিক নুলিয়া।’ প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৭ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে সে। রয়েছে ‘অটো-রাইটিং’ ক্ষমতা। মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে ডুবন্ত কাউকে উদ্ধার করতে পারে।

যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতেও সক্রিয় ওই যন্ত্র। উন্নত রিমোট কন্ট্রোলারে একটি স্ক্রিন রয়েছে, যেটি অনবোর্ড ক্যামেরা থেকে ১০৮০পি এইচডি ভিডিয়ো দেখাবে। এর ফলে উদ্ধারকারীরা নিখুঁত ভাবে জানতে পারবেন বিপদগ্রস্ত মানুষটি কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছেন। ১০০০ কিলোগ্রাম (১ টন) পর্যন্ত ভার টানতে পারে এই ওয়াটার ড্রোন। এবং একসঙ্গে একাধিক ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। যন্ত্রে থাকছে জিপিএস। তার পরেও সিগন্যাল হারিয়ে গেলে কিংবা ব্যাটারি ১৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে নিজে নিজেই উৎক্ষেপণস্থলে ফিরে আসতে পারে।

প্রশাসনের দাবি, এই রিমোটচালিত ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েনের ফলে সাগর মেলায় জলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হল। জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে আরও দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় এ বছর রক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ২,৫০০ স্বেচ্ছাসেবক, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, কোস্ট গার্ড ইত্যাদি থাকবে মেলায়। নদীপথে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে বিশেষ আলো ও টাওয়ার। যাতে কুয়াশার মধ্যেও গাড়ি চলাচল করতে পারে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর এবং আশপাশে তৈরি হচ্ছে ৫টি অস্থায়ী হাসপাতাল। মোট ৫৪০টি শয্যার ব্যবস্থা থাকছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য থাকবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স-সহ প্রায় ১০০টি সাধারণ অ্যাম্বুল্যান্স। প্রশাসনের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে নিরাপত্তা, যাতায়াত ও চিকিৎসা— সব দিক মাথায় রেখেই বিস্তৃত পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Gangasagar Mela 2026 Drone West Bengal government
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy