ক্ষণস্থায়ী মনোযোগের ‘ভাইরাল-সংস্কৃতি’র যুগে সাহিত্য থেকে ধৈর্য শেখার কথা বলছিলেন শশী তারুর। নিউ টাউনে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন কক্ষে সেন্ট জ়েভিয়ার’স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে শনিবার সাম্মানিক ডি-লিট গ্রহণ করলেন তিনি। শশীর কথায়, ‘‘আজকের পৃথিবীতে মুহূর্তে মতামত তৈরি হচ্ছে, কথায় কথায় ক্ষোভ সঞ্চারটাই দস্তুর। সেখানে সাহিত্য আমাদের ধৈর্য শেখায়। সত্য কী বুঝতেও আমাদের সাহিত্যের আশ্রয় নিতে হবে।’’ তাঁর ডক্টর অব লিটারেচার খেতাবের সূত্র ধরেই সাহিত্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছিলেন শশী। এ দেশের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে সাহিত্যকে এখন দুয়োরানি বললেও বেশি বলা হয়। এই পটভূমিতে শশীর বক্তৃতা শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সামনে অন্য মাত্রা মেলে ধরল।
শশী বুঝিয়ে বলেন, ‘‘সত্যকে বোঝার কোনও সিধে রাস্তা (লিনিয়ার) হয় না। সত্য বহুস্তরী। সাহিত্য বোধবুদ্ধি দিয়ে এই সত্যকে বুঝতে শেখায়।’’ সেন্ট জ়েভিয়ার’স বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমটেক কোর্স, স্কুল অব ডিজ়াইন, নার্সিং ও মেডিক্যাল কলেজে তৈরির তোড়জোড়ের কথা বলছিলেন উপাচার্য ফাদার ফেলিক্স রাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পঠনপাঠন ভবন তৈরির এগিয়ে চলা, এমবিএ শিক্ষাক্রমের এনবিএ স্বীকৃতি লাভ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের কথা উঠে আসে। ৪০৬৪ জন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৩০এ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্য ধরে এগোচ্ছে। ২৫ জন পিএইচ ডি ডিগ্রিধারীর সঙ্গে স্নাতক, স্নাতকোত্তরে এ দিন ১০৭৭ জন ডিগ্রি পেলেন। রোমের জেসুইট সোসাইটির সুপিরিয়র জেনারেল আর্তুরো সোসা এই সমাবর্তন উপলক্ষেই প্রথম কলকাতায়। জেসুইট মূল্যবোধের শিক্ষায় মেধা ও সহমর্মিতার মেলবন্ধনের কথা তিনি বলেন।
তবে মূল্যবোধের শিক্ষার উপযোগিতা সহজ করে বুঝিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ তারুরই। তাঁর কথায়, ‘‘শিক্ষা সঙ্কটের ঢাল নয়। চেতনার কম্পাসক্ষেত্র। আজকের উচ্ছল স্বপ্নমুখর কিন্তু জটিল অশান্ত বিভক্ত ভারতে এক ধরনের ভারসাম্য, ভদ্রতার দরকার রয়েছে। মূল্যবোধের শিক্ষা যুক্তিতে শান দিতে শেখায়।’’ ভাষা দিবসে তাঁর ডি-লিট প্রাপ্তি আদতে চেতনার আলো জ্বলা শব্দেরই স্বীকৃতি বলে দেখেছেন শশী। আজকের সফল শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ পথের লগ্নি বলে তিনি উদ্বুদ্ধ করেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)