E-Paper

দুয়ারে দাঁড়িয়ে বিশাল ‘সেরাক’, এভারেস্টে অভিযান বিকল্প পথে

পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর ৪২৫ জন বিদেশি পর্বতারোহীকে এভারেস্ট অভিযানের পারমিট দিয়েছে নেপাল সরকার। লোৎসে এবং নুপৎসে অভিযানে আসা আরও ১৫৩ জন অভিযাত্রীও এই পথে এগোতে ভিড় জমিয়েছেন এভারেস্ট বেসক্যাম্পে।

স্বাতী মল্লিক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৩২
এভারেস্টে বিকল্প পথের খোঁজে শেরপারা।

এভারেস্টে বিকল্প পথের খোঁজে শেরপারা। ছবি: শুভম চট্টোপাধ্যায়।

প্রায় ১০০ ফুট উঁচু দানবাকৃতি বরফখণ্ড (সেরাক)। আর তার সৌজন্যেই প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে এভারেস্ট বেসক্যাম্পেই অভিযান থমকে। তবে এ বার সেই বরফখণ্ডকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প পথে ক্যাম্প ১ যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করছেন শেরপারা। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবার রাতে বা আজ, বুধবার ভোরে বিকল্প রুটে জিনিসপত্র নিয়ে ক্যাম্প ১ ও ২-এর দিকে রওনা দেবেন কয়েকটি অভিযাত্রী দলের অভিজ্ঞ শেরপারা। তাঁরা ক্যাম্প তৈরি করে ফেললে তার পরে ক্রমশ উপরের ক্যাম্পে যাবেন আরোহীরাও।

পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর ৪২৫ জন বিদেশি পর্বতারোহীকে এভারেস্ট অভিযানের পারমিট দিয়েছে নেপাল সরকার। লোৎসে এবং নুপৎসে অভিযানে আসা আরও ১৫৩ জন অভিযাত্রীও এই পথে এগোতে ভিড় জমিয়েছেন এভারেস্ট বেসক্যাম্পে। অন্য বছরের মতো এপ্রিলের শুরু থেকেই বেসক্যাম্পে অভিযাত্রীদের ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য বছর এই সময়ে উপরের ক্যাম্প তৈরি, রুট খোলা, আরোহীদের ওঠা-নামা— বিপজ্জনক খুম্বু পেরিয়ে এভারেস্টে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু এ বার বাদ সেধেছে ক্যাম্প ১-এর নীচে ১৯,৯০০ ফুট উচ্চতায় থাকা এই বিশালাকৃতি সেরাক। ফলে এখনও পর্যন্ত কেউই সেরাক পেরিয়ে এগোতে পারেননি। খুম্বু হিমবাহের উপরে এই সেরাক রীতিমতো বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে রায় দিয়েছেন ‘আইসফল ডাক্তার’-রা। মনে করা হয়েছিল, দিন দশেকের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়বে। তাই যত ক্ষণ তা না হচ্ছে, তত ক্ষণ তাকে পাশ কাটিয়ে শেরপা এবং শতাধিক আরোহীদের যাতায়াত প্রবল ঝুঁকির হয়ে যাবে বলে মনে করেছিল সব আয়োজক সংস্থা। ফলে এত দিন থমকে ছিল এভারেস্ট অভিযান।

তবে এখনও সেরাকটি ভেঙে না পড়ায় বাধ্য হয়ে এ বার বিকল্প পথে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শেরপারা। হিন্দমোটর থেকে এ বছর প্রথম এভারেস্টে যাওয়া শুভম চট্টোপাধ্যায় বেসক্যাম্প থেকে মঙ্গলবার ফোনে বললেন, ‘‘বিকল্প পথে, সেরাকটি ঘুরে ক্যাম্প ১ ও ২ পৌঁছবেন শেরপা ভাইয়েরা। উপরের ক্যাম্প তৈরি হয়ে গেলেই আমাদের রোটেশন শুরু হবে। তবে সামিটের রুট এখনও খোলা হয়নি। এ বছর কবে নাগাদ সামিট হতে পারে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে যখনই হোক, সেই পথে ট্র্যাফিক অনেকটাই বেশি হবে।’’

প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বেসক্যাম্পে বসে থাকা অভিযাত্রীদের অনেকেই অবশ্য নিজের মতো করে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। কেউ ইতিমধ্যে নুপৎসে বা মেরা শৃঙ্গে সামিট করে ফেলেছেন, কেউ আবার খুম্বুতেই ফাটলটপকানো প্র্যাক্টিস করছেন। দ্বিতীয় বারের জন্য এভারেস্ট অভিযানে যাওয়া বেঙ্গল পুলিশের কনস্টেবল লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল এই ক’দিন খুম্বু হিমবাহেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। বেসক্যাম্প থেকে ফোনে বললেন, ‘‘অতিরিক্ত খরচ করে অন্য শৃঙ্গে অভিযান করিনি। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহান্তেই আমরা উপরে যাব। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভাবছি, এভারেস্ট-লোৎসে জোড়া শৃঙ্গের বদলে শুধু এভারেস্টেরদিকেই মনঃসংযোগ করব। লোৎসের কথা পরে ভাবা যাবে।’’ তবে শুভম যোগ দিয়েছিলেন বিকল্প পথ খোঁজার শেরপা দলের সঙ্গে। দিন দুয়েক আগে তিনটি আয়োজক সংস্থার অভিজ্ঞ শেরপা এবং পোল্যান্ডের এক অভিযাত্রীর সঙ্গে শুভম বিকল্প পথের খোঁজে বেরোন। ড্রোনের সাহায্যে সেরাকটিকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াও ওই বিপজ্জনক অংশকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প পথে ক্যাম্প ১ পর্যন্ত প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় তাঁদের ফিরতে হয়। শুভম বলছেন, ‘‘সেরাকের পিছন দিক দিয়ে ঘুরে এই পথে ক্যাম্প ১ পৌঁছনো যাবে। পথ হয়তো একটু বেশি কঠিন, আর ঘুরপথ হওয়ায় যেতে অতিরিক্ত সময় লাগবে।’’

আপাতত ‘অনাহূত অতিথি’ সেরাককে পাশ কাটিয়েই এভারেস্টের পথে শুরু হতে চলেছে থমকে থাকা অভিযান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mountaineers Mount Everest

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy